Friday 20th of September 2019 04:29:15 PM
Monday 15th of April 2019 05:26:14 PM

নিহত নুসরাত’র ভিডিও ধারনকারী ওসির বিরুদ্ধে সুমনের মামলা

অপরাধ জগত, আইন-আদালত ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
নিহত নুসরাত’র ভিডিও ধারনকারী ওসির বিরুদ্ধে সুমনের মামলা

“ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন”

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জীবন দিয়েছে তবু অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনি অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।অথচ তার বক্তব্য ভিডিও করে প্রচার করে স্থানীয় থানার ওসি মোয়াজ্জেম। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশের ফলে সোনাগাজীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত  ওই কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বৃহত্তর সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

ওসি মোয়াজ্জেমের করা ভিডিও থেকে নেওয়া স্কিনশর্টে দেখা যায় লজ্জায় বারবার মুখ ঢাকছে।  

সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলাটি করেন তিনি। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন তিনি।

যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে যাওয়ার পর সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসির কক্ষে আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হয়েছিলো নির্জাতিত নুসরাতকে। ওসি নিয়ম না মেনে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।বার বার লজ্জায়  দু’হাতে মুখ ঢাকার চেষ্টা করলেও নির্লজ্জের মত ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তার দুর্বলতার সুযোগে অসৎ উদ্যেশে ভিডিও করে প্রচার করে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হবিগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

যৌন হয়রানির অভিযোগ করার সময় ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে এই মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ইতিমধ্যে তিনি সমাজের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে ফেসবুকে লাইভ করে আলোচিত হয়েছেন।

লইয়ার্স ক্লাব সুত্রে জানা যায়, মামলার বিষয়ে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সাংবাদিদের বলেন, কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন দিয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার পূর্বে সে যখন থানায় ওসি সাহেবের রুমে অভিযোগ করতে যান তখন সহযোগিতার বদলে ওসি তাঁকে আপত্তিকর প্রশ্ন করেন। পাশাপাশি সেই কথোপকথনের ভিডিও করে অসৎ উদ্দেশে তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এই অভিযোগে মামলা দায়ের করেছি।

ব্যারিস্টার  আরও জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় সেই ওসির বিরুদ্ধে মামলা করেছি।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আরও  বলেন, এসব অভিযোগ তুলে ধরে আমরা আদালতকে বলার চেষ্টা করেছি ওসি সাহেবের রুম যদি নিরাপদ না হয় তাহলে দেশের মানুষ ওসি সাহেবের রুমে যাবে না। আর ওসি সাহেবের রুম যদি নিরাপদ না হয় তাহলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। এভাবে চলতে থাকলে ভিকটিমরা থানায় যাওয়াই বন্ধ করে দেবেন।

এর আগে, সকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন আইনজীবী সুমন। বেলা ২টায় এ আবেদনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে এ বিষয়ে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান।

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত আক্তার রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এরপর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের পরিবারের ওপর নানা ধরনের চাপ আসছিল।

গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার আগ মুহূর্তে মিথ্যা কথা বলে নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায় তার।অবশেষে গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নুসরাত।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc