নাফিসের ৩০ বছর কারাদণ্ড, মওকুফের সুযোগ

    0
    3

    ঢাকা, ১০ আগস্ট : যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ভবন উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৩০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসকে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দণ্ড পাওয়া বাংলাদেশী তরুণ কাজী রেজওয়ানুল আহসান নাফিসের দণ্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। গতকার শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ভবন উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৩০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসকে। শুক্রবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালত এ রায় দেন।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
    গণমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা যায়, নাফিস আদালতে এসময় দোষ স্বীকার করে বিচারকের কাছে অনুকম্পা প্রার্থনা করলেও তাকে কারাদণ্ডের রায় দেয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে নাফিস বিচারক ক্যারল ব্যাগলে আমনের কাছে পাঁচ পৃষ্ঠার একটি চিঠি লেখেন। আর চরমপন্থি ইসলামে বিশ্বাস করেন না বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।
    অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর বরাত দিয়ে গণমাধ্যম সূত্র জানায়, নাফিসের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা। প্রথমত, নাফিস যদি মনে করেন দণ্ড প্রদানের সময় ফেডারেল গাইডলাইন যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি, সে ক্ষেত্রে তিনি দণ্ড কমানোর জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

    নাসিফের ব্যাপারে অনুকম্পা দেখানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার মার্কিন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলাপে যেতে পারে। ইতিবাচক আচরণের কারণে চূড়ান্ত পর্যায়ে নাফিসের কারাবাসের সময় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় কারাবাসের মেয়াদ সহজে কমে না।
    উল্লেখ্য নিউইয়র্ক শহরের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবনটি বোমা বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টার দায়ে আটক বাংলাদেশী যুবক কাজী নাফিসকে আদালতে তোলা হয় ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে।

    অভিযোগ ছিল তিনি একটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওই গুরুত্বপূর্ণ ভবনটি উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে তিনি বিস্ফোরক ভেবে যা ব্যবহার করেছিলেন তা  ছিল নকল এবং এফবিআই এর ছদ্মবেশী গোয়েন্দারাই তার সহযোগী সেজে ওই নকল বোমাটি তাকে তৈরি করে দিয়েছিলেন। কাজী নাফিস তার অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। রায় ঘোষণার আগে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বিচারক ক্যারল অ্যামনের বরাবর অনুকম্পা চেয়ে একটি চিঠি লেখেন নাফিস।
    চিঠিতে নাফিস জানান

    তোতলামি, প্রেমিকার প্রতারণা, আমেরিকান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন কারণে প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা ও নিঃসঙ্গতায় ভুগছিলেন তিনি। যেহেতু ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ, তাই আর কোনো উপায় না দেখে ‘জিহাদের’ মাধ্যমে নিজেকে শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here