নবীগঞ্জে মারপিটে গর্ভের সন্তান নষ্ট,পুলিশের প্রতিবেদন!

    0
    8

    নূরুজ্জামান ফারুকী ,নবীগঞ্জ: পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ভাসুর ও ঝা মিলে বেধরক মারপিট করে গর্ভের সন্তান নষ্ট করেছে। স্বামী বাদি হয়ে আদালতে মামলা করলে বিচারক তদন্ত প্রতিবেদন দিতে থানাকে আদেশ করেন। পুলিশ তদন্তে সত্যতা পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদালতের বিজ্ঞ বিচারককে প্রতিবেদন দিয়েছে। মামলার সুত্রে জানা গেছে- হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা দীঘলবাক ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার পুত্র দিনমজুর মোঃ খালেদ মিয়া। সে তার ভাই সফর মিয়ার ধান কেটে দিলে মজুরি বাবত ১ হাজার ৫ শত টাকা পাওনা থাকে। জীবিকার তাগিদে সে চট্রগ্রামে কাজে সন্ধানে চলে যায়। যাবার সময় বলে রাখে ওই টাকা তার স্ত্রী পরনা বেগমকে দিতে হবে। স্বামী বাড়িতে না থাকার সুবাদে এরই মধ্যে সফর মিয়া খালেদের স্ত্রীর কাছে মাছ ধরার জাল চায়।

    সে জানায়-তাদের মাছ ধরার জাল নেই। এনিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ভাসুর সফর অকথ্য ভাষায় পরনাকে গালিগালাজ করেন। এর কিছুদিন পর অর্থাৎ ১১জুন ২০১৯ সাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় খালেদের স্ত্রী পরনা বেগম ভাসুর সফরকে তার স্বামীর ধান কাটার পাওনা টাকা চায়। সে টাকা না দিয়ে উল্টো তার সাথে তর্ক ধরে। এমনকি পাশাপাশি বসতঘর হওয়ায় বীরদর্পে ভাসুর সফর ও ঝা মিনা বেগম একজোট হয়ে তার দেড় বছরের শিশু বাচ্চা নাছিরাকে মার কোল থেকে নিয়ে প্রাণে হত্যার উদ্দেশে মাটিতে ছুড়ে ফেলে এবং তার পরনা বেগমকে কানে,গালে থাপ্পর মারে। ভাসুর সফর মিয়া তার তলপেটে স্বজোরে লাথি মেরে গুরুতর আহত করে। ওই সংবাদ খালেদের শ্বশুর বাড়ির লোকজন জেনে আহত পরনা ও তার শিশু কন্যা নাছিরাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    সেখানে টানা চারদিন রক্তকরনের পর তার গর্ভপাত হয়। দীর্ঘ ২০দিন চিকিৎসা শেষে স্ত্রী পরনা ও শিশু বাচ্ছা নাছিরাকে নিয়ে বাড়ি ফিরেন। এর বিচার চেয়ে খালেদ মিয়া বিগত  ১৪ জুলাই ২০১৯ সালে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সিআর ৩২০/২০১৯ ইং মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি আসামী করেন আপন ভাই সফর মিয়া, ভাইয়ের স্ত্রী মিনা বেগমকে। মামলাটি বিজ্ঞ বিচারক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নবীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। থানার ওসি এসআই সম্রাটকে তদন্তভার দেন। তিনি ওই মামলার ৯ জন স্বাক্ষীর ১৬১ ধারা জবানবন্ধি লিপিবদ্ধ করেন। অবশেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে গত ১ মার্চ ২০২০ ইং বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ ফকরুল ইসলাম জুয়েল বলেন-ঘটনা শুনেছি এবং আপোষে মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এওলা মিয়া বলেন-এসব ঘটনা কেউ তাকে জানায়নি।