নদীর নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় অষ্টগ্রামের কৃষি হুমকির মুখে

    0
    11

    খন্দকার আবু সুফিয়ান (অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি):  কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওড় এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদী গুলোর মধ্যে মেঘনার শাখা নদী ধলেশ্বরী নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে ফলে অষ্টগ্রাম উপজেলার কৃষি ও পরিবেশ মারাক্তক হুমকির মুখে। নদীগুলো বালুরাশির মাঝদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ক্ষীণ ধারায়। এককালে ধলেশ্বরীর রূপ ছিল ভয়ঙ্কর। এক যুগ পূর্বে যে নদীতে কেয়া পার হতে যেয়ে নৌকা ডুবিতে প্রাণ হারাতে হয়েছিল যাত্রীদের, আজ সেই ধলেশ্বরীর উপর ছোট বাচ্ছাদের সাতার আর দূরন্তপনা লক্ষ করা যায়। হেটে পার হওয়া যায় নদীর এক পার হতে অন্য পারে। নাব্যতা সংকটের ফলে হুমকিতে থাকা শত শত একরের সেচ প্রকল্প কুড়িয়ে কুড়িয়ে কোন রকম চলছে।

    ধীরে ধীরে ধলেশ্বরী তার আগের রূপ হারিয়ে ফেলেছে। স্রোতের তীব্রতা কমে যাওয়ায় পলি জমতে থাকে সারা ধলেশ্বরীর বুক জুড়ে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অষ্টগ্রামে অবস্থিত ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সেতুর উভয় পাশে পূর্ব-পশ্চিম অংশে নদীতে পানি শূণ্য। নদীর বুকে রোপন করা হয়েছে চৈতালী ধান। পানিশূন্য ধলেশ্বরী নদ ভরাটের ফলে ধীরে ধীরে মরুকরণের দিকে এগোচ্ছে অষ্টগ্রামের অধিকাংশ কৃষি জমি।

    অন্যদিকে অষ্টগ্রামের পূর্ব উত্তরে অবস্থিত বিল মাকসার নাব্যতা সংকটের ফলে পানির সেচ সমস্যায় অষ্টগ্রামের উত্তর হাওড়ের শত শত একর কৃষি জমি আজ হুমকির মুখে, এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদী খনন করে দ্রুত ধলেশ্বরী ও বিল মাকসার নাব্যতা ফিরিয়ে আনা।

    অষ্টগ্রামের দেওঘর ইউনিয়নের পাওন ও কাগজীগ্রামের দক্ষিণে অবস্থিত বিল ডোড্ডার নাব্যতা সংকটের ফলে পাওন, কাগজীগ্রাম, ভাটিনগর, দেওঘর, লাউড়া ও বাঙ্গাল পাড়া ইউনিয়নের কৃষি জমির সেচ প্রকল্প গুলো হুমকির মুখে।
    একইভাবে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন, কলমা ইউনিয়ন এবং চর দেওঘর ও কালিপুর হাওড়ে খাল বরাটের ফলে নাব্যতা সংকটে সেচ প্রকল্প গুলো ও হুমকির মধ্যে রয়েছে।

    এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই অফিসে তিনি দুই/তিন মাস পূর্বে যোগদান করেছেন, অষ্টগ্রামের উল্লেখিত সমস্যার ব্যাপারে জেলার এই প্রধান কর্তা কিছুই জানেন না বলে জানান, তিনি তার অফিসের আরেক কর্তা, শাখা কর্মকর্তা – উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. রাজু হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। মো. রাজু হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ধলেশ্বরী নদীর পূর্বে দিকে অবস্থিত বাঙ্গাল পাড়া হয়ে ধলেশ্বরী নদীতে আসা সংযোগ খাল গুজিয়ার খাল এবং ধলেশ্বরী নদী মিলিয়ে ২.৫ কি. মি. (আড়াই কি. মি.) এলাকা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খননের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি সাইত্রিশ লক্ষ টাকা, এই কর্মকর্তা জানান টেন্ডার পেয়েছে ময়মনসিংহের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান, এখন খনন কাজ চলার কথা থাকলেও টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্টানটি তাদের কাছ থেকে দশ থেকে পনের দিন সময় চেয়েছেন, আগামী দশ পনের দিন পর এই খনন কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

    প্রশ্ন করা হলে এই কর্তা আরও জানান, বিল মাকসার ৩ কি. মি. জায়গা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খনন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে, যা দ্রুত মন্ত্রনালয়ে পাশ হওয়ার কথা রয়েছে এবং চর দেওঘর, কালিপুর, ও কলমা ইউনিয়নসহ উপজেলায় ১৩ কি. মি.(তের কি.মি.) খাল বিল ও নদী ড্রেজিং করার জন্য মন্ত্রনালয়ে আবেদন করা হয়েছে, আশা করা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে তা মন্ত্রনালয়ে পাশ করা হলে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

    এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম সদর ইউ’পি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফারুক আহমদ জানান, দক্ষিনের নদী ধলেশ্বরী ও পূর্ব অষ্টগ্রামের ইকুরদিয়া থেকে শুরু হওয়া বিল মাকসা ভরাটের ফলে নাব্যতা সংকটে পানির সেচ সমস্যার ফলে ৬০ শতাংশ জমি চলতি বৎসর অনাবাদি রয়ে যাচ্ছে, সরকার দ্রুত বিল মাকসা ও ধলেশ্বরী নদী খনন না করলে অত্র এলাকার এক ফসলী কৃষি বিপন্ন হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, এমনিতেই অনাবৃষ্টি ও অতি বৃষ্টির ফলে হাওড়ের কৃষি চাষাবাদ করা আজ চরম সংকটের সম্মুখীন, তাই নদী খনন করে এ সমস্যা থেকে উত্তরনে জরুরী পদক্ষেপ দাবী করছি সরকারের  সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রনালয়ের কাছে। সুত্রঃকিশোরগঞ্জ জার্নাল