চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর কটুক্তির প্রতিবাদে কর্মসূচি

    0
    20
    হজ্ব ও আলিয়া মাদরাসা নিয়ে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহর জঘন্য কটুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত সমন্বয় কমিটির সংবাদ সম্মেলন আজ  ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক মাওলানা এম এ মতিন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ।
    লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- বাংলাদেশের বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি এক বক্তব্যে আলিয়া মাদ্রাসাপন্থী আলেমদের বিরুদ্ধে মর্যাদাহানিকর জঘন্য কটুক্তি করে এদেশের ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার  মূলধারা অনুসারী সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম জনতার হৃদয়ে কুঠারাঘাত করেছেন। গত কয়েকদিন পূর্বে কউমীদের মাহফিলে তিনি কউমীদের হক্কানি আলেম উল্লেখ করে আলিয়া মাদ্রাসার আলেমদের কুকুরের সাথে তুলনা করে নিজের জঘন্য মনোভাব জানান দেন। শুধু তাই নয়-ধর্মপ্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে  “আলিয়া-টালিয়াতে আর আলেম হবেনা এবং কুকুরকে মাংস দিয়ে ঘেউ ঘেউ থেকে বিরত রাখার হিকমত অবলম্বনের মতই তিনি কউমী হাক্কানিদের পাশাপাশি আলিয়ার কিছু  লোক নিয়ে হজ্জে গেছেন”  বলে যে  জঘন্য বক্তব্য রেখেছেন তা পক্ষপাতদুষ্ট এবং ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ্বকে  কুকুরের মাংসের সাথে তুলনা করে দেশের  সংখ্যাঘরিষ্ট মুসলিম জনতার ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করার শামিল।
    লিখিত বক্তব্যে স উ ম আবদুস সামাদ আরো বলেন- ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ মন্ত্রীত্বে আসার পর থেকে শবে বরাত ও  ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, মিলাদ কিয়ামের বিরুদ্ধাচারণসহ নানা বিতর্কিত কাজ ও উক্তি করে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দিচ্ছেন। সর্বশেষ যুক্ত হল আলিয়া মাদ্রাসা নিয়ে জঘন্য কটুক্তি। ধর্মমন্ত্রণালয়ের প্রেসনোটে তার পক্ষে  যা উল্লেখ করা হয়েছে তা অসত্য ও মনগড়া বিবৃতি উল্লেখ করে মাওলানা এম এ মতিন বলেন-সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের হজ্ব করানোর কথা স্বীকার করেছেন।
    প্রতিমন্ত্রীর  মন্তব্যের ইঙ্গিত তাদের দিকে বলা হলেও মূলত গত বছর কোন জামাত সমর্থক লোক সরকারি খরচে হজ্বে যাননি। তিনি মূলত আলিয়া ঘরানার সুন্নী আলেমদেরকে তার কটুক্তির নিশানা  বানিয়েছেন। মাওলানা এম এ মতিন বলেন-আমরা মনে করি, এমন জঘন্য  পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তি এদেশের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী পদে থাকবার অধিকার নেই। কারণ, তিনি সরকারের মন্ত্রীর পদে বসে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা-অবিশ্বাস রাখেন তাই প্রমান করেছেন এবং দুই শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনদার -সূফি ওলামা তৈরীর মারকাজ আলিয়া মাদ্রাসার সাথে সংশ্লিষ্ট আলেমদের কুকুরের সাথে তুলনা করে জঘন্য বেয়াদবী করেছেন। তিনি এভাবে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা  করেন, আবার সরকারের কোন নীতি-নির্দেশ মানেনা এমন প্রতিষ্ঠানকে প্রকাশ্যে মাথায় তুলে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করবেন তা মানা যায় না।
    জননেতা এম এ মতিন অবিলম্বে এ জঘন্য বেয়াদবির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা সহ ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে  আগামী ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ এবং ৭২ ঘন্টার মধ্যে তাকে অপসারণ করা  না হলে ১৭ ও ১৮ নভেম্বর শনিবার ও রোববার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ তিনদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন-গবেষক আল্লামা এম এ মান্নান, পীরে ত্বরিকত আল্লামা মছিহুদ্দৌলাহ, আল্লামা আশরাফুজ্জামান আল কাদেরি, অধ্যক্ষ আল্লামা ইসমাঈল নোমানী, এড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অধ্যক্ষ আল্লামা তৈয়ব আলি, মাওলানা শাহ নুর মোহাম্মদ আলকাদেরী, পীরজাদা গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম চিশতি, মাওলানা আশরাফ হোসাইন, মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, নাছির উদ্দিন মাহমুদ, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, জিএম শাহাদত হোসাইন মানিক, অধ্যাপক এমরানুল ইসলাম, মাওলানা ফরিদ আহমদ জিহাদী, হাবিবুল মোস্তফা সিদ্দিকী, মাওলানা নুরুল্লাহ রায়হান খান, মাওলানা সোহাইল উদ্দীন আনসারী, আমান উল্লাহ আমান, মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, মুহাম্মদ  গিয়াস উদ্দিন, মিনহাজ উদ্দিন সিদ্দিকী, হাফেজ এনামুল হক, হুমায়ুন কবির, মুহাম্মদ নুর রায়হান চৌধুরী প্রমুখ।