দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের শুনানি ২ মে

    0
    1

    ঢাকা, ১৮ এপ্রিল : জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানির তারিখ আগামী ২ মে ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। এ সময়ের মধ্যে উভয়পক্ষকে আপিলের সার-সংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৬ সদস্যের বেঞ্চ এ তারিখ নির্ধারণ করেন। এ বেঞ্চের অপর পাঁচ বিচারপতি হলেন-বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে এম কে রহমান আপিলটির ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করেন। চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিষয়টি বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।
    আজ আদালতে শুনানির তারিখ ধার্য করার আবেদন জানান এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর ভিত্তিতে এ তারিখ ধার্য করেন আদালত। মাহবুবে আলমের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান। সাঈদীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তার আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক।
    অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, শুনানির তারিখ ধার্য করার জন্য আমরা আবেদন নিয়ে এসেছিলাম। আদালত ২ মে শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন। এ সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষকে সার-সংক্ষেপ জমা দিতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিস্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় মামলা উঠতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। বর্তমানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ ও কাদের মোল্লার করা পৃথক দুটি আপিলের ওপর আপিল বিভাগে শুনানি চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেয়া রায়ে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ ও কাদের মোল্লা পৃথক আপিল করেন।
    মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালিকে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের দুটি, ধর্মান্তরিত করার একটি এবং লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ায় অন্য অভিযোগগুলোতে আলাদা করে কোনো দণ্ড দেয়া হয়নি। ওই রায় ঘোষণার ২৯ দিনের মাথায় ২৮ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন।

     

     

     

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here