Saturday 17th of November 2018 04:41:49 PM
Thursday 12th of July 2018 12:57:53 AM

থাইল্যান্ড গুহায় ১৭ দিন ধরে আটকদের অজানা কাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
থাইল্যান্ড গুহায় ১৭ দিন ধরে আটকদের অজানা কাহিনী

ডেস্ক নিউজঃ থাইল্যান্ডের একটি পাহাড়ের গুহায় ১৭ দিন ধরে আটকা থাকার পর ১২ জন কিশোর ফুটবলার এবং তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়েছে। পানিতে ডুবে যাওয়া গুহার ভেতর থেকে তাদের শেষ পর্যন্ত বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন ডুবুরিরা।

তাদের আটকে পড়া, বেঁচে থাকা এবং উদ্ধার করার কাহিনি সারা বিশ্বের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সবচেয়ে বিস্ময় হলো, এই ১৭ দিন তারা কীভাবে বেঁচে ছিল?

তাদের নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর তাদের সম্পর্কে প্রথম জানা গিয়েছিল। গুহার মুখে রেখে যাওয়া তাদের সাইকেলের সূত্র ধরে ব্রিটিশ ডুবুরিরা তাদের খুঁজে বের করেন। তখনই প্রথম জানা যায় যে তারা থাম লুয়াং নামের ওই গুহার আড়াই মাইলেরও বেশি গভীরে আটকা পড়ে আছে। গুহাটির কোথাও কোথাও এমনভাবে প্লাবিত হয়ে যায় যে সেপথ দিয়ে শিশুরা বের হয়ে আসতে পারছিল না।

তাদের খোঁজ পাওয়ার আগে ৯ দিন ধরে এই ফুটবলারদের দলটিকে গুহার অন্ধকারের ভেতরে বেঁচে থাকতে হয়েছে। তাদের খোঁজে কীভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে সে সম্পর্কে তখনও পর্যন্ত তাদের কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু এই এক সপ্তাহেরও বেশি সময় কীভাবে বেঁচে ছিল তারা?

বলা হচ্ছে, পাহাড়ের ভেতরে চুইয়ে পড়া ফোঁটা ফোঁটা পানি, ওয়াইল্ড বোয়ার নামক ফুটবল দলের একজন সদস্যের জন্মদিন উপলক্ষে তারা যে স্ন্যাকস বা খাবার-দাবার সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন সেসব খেয়ে এবং মেডিটেশন বা ধ্যান করেই তারা এতদিন নিজেদের জীবন রক্ষা করেছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, তাদেরই একজনের জন্মদিন উপলক্ষে সারপ্রাইজ পার্টি করার জন্যে তারা গুহার ভেতরে ঢুকেছিলেন। কিন্তু পরে প্রবল বৃষ্টির কারণে গুহার ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করলে তারা পালাতে পালাতে গুহার এতটা গভীরে চলে গেছেন।

জন্মদিনের ওই ছেলেটির নাম পীরাপাত সম্পিয়াংজাই। ২৩ জুন, সেদিন তার বয়স হয়েছিল ১৭ বছর এবং ওই দিনেই তারা গুহার ভেতরে ঢুকেছিল। ২৩ জুন থেকেই এই শিশুদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

পীরাপাত সম্পিয়াংজাইয়ের জন্মদিন উপলক্ষে দলের অন্য ছেলেরা খাবার কিনে নিয়ে গিয়েছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে গুহার ভেতরে আটকা পড়ার পর এসব স্ন্যাক্স খেয়েই তারা বেঁচে ছিল।

বলা হচ্ছে, এই কিশোর ফুটবলারদের কোচ একাপল চানতাওং, বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গুহার ভেতরে এসব খাবার খেতে রাজি হননি। ফলে ২ জুলাই ডুবুরিরা যখন এই ফুটবল দলটিকে গুহার ভেতরে খুঁজে পেলেন, তখন শারীরিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল ছিলেন কোচ একাপল।

তাদের সন্ধান পাওয়ার পর তাদের বাইরে থেকে খাবার দেওয়া শুরু হয়। ‘এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে সহজে হজম হয় এরকম খাবার, শক্তিদায়ক খাদ্য যেগুলোতে মিনারেল ও ভিটামিন মেশানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শেই তাদের এসব খাবার দেওয়া হয়’, বলেছেন উদ্ধারকারী দল থাই নেভি সিলের প্রধান এডমিরাল আরপাকর্ন ইওকোংকাওয়ে।
কিন্তু তার আগ পর্যন্ত জন্মদিনের খাবার খেয়েই বেঁচে ছিলো তারা।

কর্তৃপক্ষ এও বলেছে, গুহার দেয়াল থেকে যেসব পানি চুইয়ে চুইয়ে পড়েছে সেসব পানি খেয়েছে বাচ্চারা। কারণ গুহায় প্লাবিত হয়ে যাওয়া বৃষ্টির পানি ছিল ঘোলা ও নোংরা।

এই কিশোরদের উদ্ধার করার পর চিকিৎসকরা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বলেছেন, তারা ভালো আছে। ‘তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা ভাল। মানসিকভাবেও তারা সুস্থ আছে’, বলেছেন থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য বিভাগের একজন পরিদর্শক থংচাই লের্তওলিরাতানাপং। তবে তিনি বলেছেন যে বেশিরভাগ শিশুরই গড়ে দুই কেজি করে ওজন কমেছে।

উষ্ণতা
সাধারণত প্লাবিত হয়ে যাওয়া কোনো গুহার ভেতরে কেউ বেশি সময় ধরে আটকা পড়ে থাকলে তার হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ব্রিটিশ কেভিং এসোসিয়েশনের সাবেক প্রধান এন্ডি এভিস বিবিসিকে বলেছেন, ‘বিশ্বের ওই এলাকায় গুহার ভেতরে বাতাসের তাপমাত্রা বেশিই হয়ে থাকে।’ তারপরেও ওই কিশোররা সতর্কতা হিসেবে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিল।

থাই কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেছেন, ‘নিজেদের উষ্ণ রাখার জন্যে তারা গুহার ভেতরে পাঁচ মিটার গভীর একটি গর্ত খুঁড়েছিল। পাথর দিয়ে এই সুড়ঙ্গটা তৈরি করেছিল তারা। নিজেদের উষ্ণ রাখতে তারা ওই সুড়ঙ্গের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিল।’

বাতাস
শিশুরা যখন গুহার ভেতরে আটকা পড়ে তখন বাতাস প্রাথমিকভাবে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ ছিল না। ‘বেশিরভাগ গুহাই প্রাকৃতিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারে’, বলেন যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় গুহা উদ্ধার কমিশনের সমন্বয়কারী আনমার মির্জা। ‘গুহার ভেতরেও বাতাস ঢুকতে ও বের হতে পারে। গুহার যেসব জায়গায় লোকজন যেতে পারে না সেখানে কিন্তু বাতাস প্রবাহিত হয়।’

কিন্তু তারপরেও যত দিন গড়িয়েছে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা ততটাই কমে গেছে। বলা হচ্ছে, শিশুরা যেখানে আশ্রয় নিয়েছিল সেখানে অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রা হওয়ার কথা ছিল ২১ শতাংশ। কিন্তু সেটা নেমে গিয়েছিল ১৫ শতাংশে।

পরে বাচ্চাদের কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দিয়েছিল ডুবুরিরা। থাই নেভির সাবেক একজন ডুবুরি গুহার গভীরে অক্সিজেনের বোতল সরবরাহ করে ফেরার পথে নিজেই অক্সিজেনের অভাবে মারা যান।

মানসিক অবস্থা
আরেকটি বড় দুশ্চিন্তা ছিল শিশুদের মানসিক অবস্থা। কারণ তাদের থাকতে হয়েছে গাঢ় অন্ধকারের ভেতর, দিনের পর দিন। সূর্যের আলো বহুদিন তাদের কাছে পৌঁছায়নি। সময় সম্পর্কেও তাদের কেনো ধারণা ছিল না যে কখন রাত আর কখন দিন হচ্ছে। এমনকি তাদের খোঁজে বাইরে যে বড় ধরনের তল্লাশি চলছিল সে সম্পর্কেও তাদের কোনো ধারণা ছিল না।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে শিশুদের শান্ত রাখতে একটা বড় ভূমিকা ছিল তাদের কোচের।

মানসিক চাপ মোকাবেলায় তিনি তাদের মেডিটেশন করিয়েছেন গুহার ভেতরে। ফুটবল কোচ হওয়ার আগে তিনি ছিলেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু। কর্মকর্তারা বলছেন, একই সাথে গুহার বাতাস যাতে বেশি ব্যবহার করা না হয়ে যায় সে বিষয়েও সচেতন ছিলেন তিনি। পরে যখন উদ্ধাকারীরা বাচ্চাদের কাছে গিয়ে পৌঁছায় তখন তারা তাদের পরিবারের জন্যে লিখে পাঠায় চিঠি।

এরকম এক চিঠিতে কোচ শিশুদের পিতামাতার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তাদেরকে গুহার ভেতরে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। কিন্তু অভিভাবকরা পাল্টা জবাবে বলেছেন, এজন্যে তারা কোচকে দায়ী করেন না।

তবে গুহার ভেতর থেকে লেখা চিঠিতে কোচ লিখেছিলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, শিশুদের রক্ষা করতে আমার পক্ষে যতটা করা সম্ভব আমি তার পুরোটাই করব।’


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc