তৃতীয়বারের মতো এবার অর্থনৈতিক শুমারি শুরু

    0
    4

    শুমারি হতে হবে গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য অর্থনৈতিক শুমারি একটি শক্তিশালী ভিত হিসেবে কাজ করবে। তাই শুমারির তথ্য সঠিক না হলে সঠিকভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণও সম্ভব হবে না। এ কারণে যাঁরা এই শুমারির কাজটি করবেন, তাঁদের দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গেই এটি সম্পন্ন করতে হবে।  
    গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩’-এর কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন।  

    এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ। বক্তব্য দেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নজিবুর রহমান, বিবিএসের মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই শুমারি পরিচালনা করবে। গতকাল শুমারির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। শুমারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা শুমারি সমন্বয়কারী ও মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এ কার্যক্রম শুরু হয়।
    অর্থনীতিতে গুণগত অনেক পরিবর্তন এসেছে দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের যে গড় প্রবৃদ্ধি, তা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।’ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শুমারির কাজ শেষ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ গ্রহণ করে এই শুমারির ফলাফল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোষণা করা যাবে।’
    পরিকল্পনামন্ত্রী ডিসেম্বরের মধ্যে শুমারির কাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যাঁরা এই শুমারির কাজ করবেন, তাঁরা আন্তরিকভাবে যত দ্রুত সম্ভব তা করবেন যেন বছর শেষ হওয়ার আগেই শুমারির কাজ শেষ করা যেতে পারে। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে, দ্রুত কাজ করতে গিয়ে যেনতেনভাবে এই শুমারি করা না হয়।’
    কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ বলেন, শুমারিতে ভুল হলে আগামী ১০ বছর ভুল তথ্যের ওপর চলবে জাতি। এ জন্য যাতে ভুলত্রুটি না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে কাজ করা উচিত। অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন ধ্বংসাত্মক হরতাল আমরা অতীতে আর দেখিনি। রাজনৈতিক নেতাদের দেশের কথা ভাবতে হবে। যদি দেশই না থাকে, তাহলে আপনারা কী শাসন করবেন?’
    বিবিএস জানায়, তৃতীয়বারের মতো এবার অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০১ সালে শহরে ও ২০০৩ সালে পল্লি এলাকায় এই শুমারি করা হয়েছিল।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here