তুরস্কে ভণ্ড ধর্ম প্রচারকের ১০৭৫ বছরের জেল

    0
    7

    গতকাল (সোমবার) তুরস্কের একটি আদালতে যৌন হয়রানি, নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, প্রতারণা এবং রাজনৈতিক ও সামরিক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জনপ্রিয় টিভি ধর্মপ্রচারক আদনান ওকতারকে (৬৪) ১০৭৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে – অশ্লীল পোষাক পরা নারী ঘেরা থাকতেন তিনি এব‌ং তাদেরকে ‘বিড়াল ছানা’ বলে ডাকতেন।

    আদনান যখন সৃজনশীলতা ও রক্ষণশীল মূল্যবোধের প্রচার করতেন, তখন নারীরা অর্ধনগ্ন পোশাকে টিভি স্টুডিওতে সংগীতকে উজ্জীবিত করতে তার চারপাশে নাচতো। ধারণা করা হচ্ছে, ঐ নারীদের অনেকেই প্লাস্টিক সার্জারি করেছিলো। ২০১৮ সালে দুশ’র বেশি অনুসারীসহ আদনানকে গ্রেফতার করে ইস্তানবুল পুলিশ।

    আমেরিকাভিত্তিক ধর্মপ্রচারক ফেতুল্লা গুলেনের নেতৃত্বে ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানেও আদনানের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদনান। যৌন নির্যাতনের ঘটনাকে তিনি শহরের কাল্পনিক গল্প বলে আখ্যায়িত করেছেন। ডিসেম্বরে আদনান বিচারককে বলেছিলেন যে, তার প্রায় এক হাজার গালফ্রেন্ড রয়েছে।

    অক্টোবরে এক শুনানিতে আদনান বলেছিলেন, নারীদের জন্যে আমার হৃদয়ে ভালবাসা উপচে পড়ে। প্রেম একটি মানবিক গুণ। এটি একটি মুসলিমের গুণ। আরেক শুনানিতে তিনি বলেন: আমি অসাধারণ শক্তিমান।

    ১৯৯০ সালে কয়েকটি কেলেংকারির ঘটনায় আদনানের নাম সামনে আসে। বিচারে একজন নারী আদালতকে জানান, তাকে ও অন্যান্য নারীকে তিনি যৌন নির্যাতন করেছেন। কিছু নারীকে তিনি ধর্ষণের পর, জোর করে গর্ভনিধোরক বড়ি খাওয়াতেন। ঐ নারী সেখানে ১৭ বছর বয়সে যোগ দিয়েছিলেন।

    আদনানের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৯৬ হাজার গর্ভনিধোরক পিল উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে আদনান জানান, এসব গর্ভনিধোরক বড়ি তিনি চর্ম রোগ ও নারীদের অনিয়মিত মাসিকের কাজে ব্যবহার করতেন। সূত্র: ডন, আনাদোলু এজেন্সি ও গার্ডিয়ান।