Wednesday 20th of January 2021 09:37:16 AM
Wednesday 31st of January 2018 07:45:47 PM

তাহিরপুর রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালান:৩নৌকা আটক

অপরাধ জগত ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
তাহিরপুর রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালান:৩নৌকা আটক

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,৩১জানুয়ারী,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে চলছে জমজমাট চোরাচালান ও চাঁদাবাজি বাণিজ্য। এলাকার চিহ্নিত চোরাচালানী ও একাধিক মামলার জেলখাটা আসামীরা উপজেলার লাউড়গড়,চাঁনপুর, টেকেরঘাট,বালিয়াঘাট,চাঁরাগাঁও ও বীরেন্দ্রনগর বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয় দিয়ে সরকারের লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে পাচাঁর করছে কয়লা,চুনাপাথর,মদ,গাঁজা, হেরুইন,ইয়াবা,মোটর সাইকেল,গরু ও অস্ত্র।

৩১.০১.১৮ ইং বুধবার ভোর ৫টায় উপজেলার বীরেন্দনগর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে কয়লা পাচাঁরের সময় ৫মে.টন চোরাই কয়লাসহ ৩টি বারকি নৌকা আটক করেছে বিজিবি। আর ২০মে.টন কয়লা বাগলী শুল্কস্টেশনের ৭টি ডিপুতে নিয়ে মজুত করা হয়েছে। কিন্তু চোরাচালানীদেরকে আটক করেনি। অন্যদিকে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয়ধারী লালঘাট গ্রামের চিহ্নিত চোরাচালানী ৭টি মামলার জেলখাটা আসামী কালাম মিয়া ভারত থেকে মদ পাচাঁর করার সময় তার বাড়ির পিছন থেকে ১বস্তা ভর্তি মদ আটক করলেও তাকে গ্রেফতার করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে বন্ধ করা যাচ্ছে না তাদের চোরাচালান ও চাঁদাবাজি বাণিজ্য।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানাযায়-বর্তমানে উপজেলার বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পে কর্মরত হাবিলদার ফখরদ্দিন,হাবিলদার আসাদ,নায়েক ওলি,নায়েক সাব্বির,নায়েক শহিদ ও টেকেরঘাট পুলিশ ক্যাম্পের এসআই ইমামের সহযোগীতায় লালঘাট হতে টেকেরঘাট পর্যন্ত মোট ৩২টি চোরাইঘাট ও ২টি পাহাড়ীছড়া দিয়ে কয়লা,চুনাপাথর,মদ,গাঁজা,হেরোইন,ইয়াবা, মোটর সাইকেল ও অস্ত্র পাচাঁর করছে সোর্স পরিচয়ধারী জিয়াউর রহমান জিয়া,কালাম মিয়া,আব্দুর রাজ্জাক,আব্দুল হাকিম ভান্ডারী,ইদ্রিসআলী, রতন মহলদার,শরিফ মিয়া,মানিক মিয়া,মোক্তার মিয়া, তিতু মিয়া গং। তারা গত ৩মাসে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রায় ২কোটি টাকার কয়লা ও চুনাপাথর পাচাঁর করার অভিযোগর উঠেছে। টেকেরঘাটে চুনাপাথর পাচাঁরের সময় ১জন, লালঘাট ও লাকমা দিয়ে কয়লা পাচাঁরের সময় চোরাই গুহার নিচে মাটি চাপা পড়ে ৫জন ও চুনাপাথর পাচাঁরের সময় ট্রলির নিচে পৃষ্ট হয়ে ১জনসহ এপর্যন্ত মোট ৯জনের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে চাঁরাগাঁও সীমান্তের বাঁশতলা,লালঘাট,চাঁরাগাঁও এলসি পয়েন্ট,জঙ্গলবাড়ি ও কলাগাঁও এলাকার ১৫টি চোরাইঘাট ও ২টি পাহাড়ীছড়া দিয়ে হাবিলদার শাজাহান,নায়েক রহিম ও মোবারক এর সহযোগীতায় সোর্স পরিচয়ধারী তোতা মিয়া ও শফিকুল ইসলাম ভৈরব ভারত থেকে কয়লা,সাদাপাথর, বল্ডাপাথর,মদ,গাঁজা,হেরোইন,ইয়াবা,মোটর সাইকেল, গরু ও অস্ত্র পাচাঁর করছে। গত ৩ মাসের প্রায় ১কোটি টাকার চোরাচালান হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর চুনাপাথর ও কয়লা পাচাঁরের সময় বিএসএফের তাড়া খেয়ে পাহাড় থেকে নিচে ২জন, চুনাপাথর পাচাঁরের সময় ট্রলির নিচে চাপা পরে ২জনসহ এপর্যন্ত মোট ৬জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া লাউড়গড় সীমান্তের যাদুকাটা নদী ও পুরান লাউড় এলাকা দিয়ে নায়েক সুবেদার কেরামত ও এফএস মাহফুজের সহযোগীতা ভারত থেকে প্রতিদিন অবাধে কয়লা,পাথর,মদ,গাঁজা,হেরুইন,ঘোড়া,গরু ও অস্ত্র পাচাঁর করা হচ্ছে। পাচাঁরকৃত ১ বারকি নৌকা পাথরের জন্য ৫০০টাকা,১ বস্তা কয়লা থেকে ৮০টাকা ও ১ লড়ি বল্ডার পাথরের জন্য ২০০টাকা,যাদকাটা নদীর তীর কেটে বালি বিক্রির জন্য ১ফুট বালি ৩টাকা ও সেইভ মেশিন থেকে ১হাজার টাকা করে বিজিবি ক্যাম্পের নামে চাঁদা নিচ্ছে সাহিদাবাদ গ্রামের আলী আকবরের ছেলে বিজিবি সোর্স শহিদ মিয়া ও পুরান লাউড় গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে সুমন মিয়া।

যাদুকাটা নদী দিয়ে কয়লা,পাথর,গরু,ঘোড়া ও মদ পাচাঁর করতে গিয়ে বিএসএফের তাড়া খেয়ে নদীতে ডুবে এপর্যন্ত ৮জনের মৃত্যু হয়েছে। আর বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয়ধারী নুরু মিয়ার নামে মোট ৪টি,রফিক এর নামে ২টি ও রাজ্জাক মিয়ার নামে ১টি চাঁদাবাজি,কয়লা ও মদ পাচাঁর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারপরও বন্ধ হয়নি এই সীমান্তের চোরাচালান ও চাঁদাবাজি। অপরদিকে চাঁনপুর সীমান্তের বারেকটিলা,রাজাই ও নয়াছড়া দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন মদ,গাঁজা,হেরোইন,ইয়াবা,গরু, ঘোড়া,কয়লা,চুনাপাথর ও অস্ত্র পাচাঁর করে বিজিবি ও পুলিশের নামে ৫শ থেকে ৫হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিচ্ছে মদ পাচাঁর মামলার জেলখাটা আসামী চাঁনপুর গ্রামের বিজিবি সোর্স আবু বক্কর ও তার সহযোগী বারেকটিলা গ্রামের রফিকুল। এই সীমান্তের বারেকটিলা দিয়ে গরু ও মদ পাচাঁর করতে দিয়ে ১ জন ও নয়াছড়া দিয়ে কয়লা ও চুনাপাথর পাচাঁরের সময় ২জনসহ এপর্যন্ত ৫জনের মৃত্যু হয়েছে। আর অস্ত্রসহ ১ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। কিন্তু বিজিবি ও পুলিশের কোন ভূমিকা নেই।

এব্যাপারে বালিয়াঘাট,লাকমা ও বড়ছড়া শুল্কষ্টেশনের ব্যবসায়ী-নাসির উদ্দিন,কফিল উদ্দিন, তারা মিয়া,সবুজ মিয়াসহ আরো অনেকেই বলেন,বিজিবির সহযোগীতায় সরকারের লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালান ও চাঁদাবাজি করে বিজিবি সোর্স জিয়াউর রহমান জিয়া,কালাম মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক রাতারাতি বাড়ি,গাড়ী ও জায়গা-জমি কিনাসহ একাধিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত জোড়ালো কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন। বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী একাধিক মামলার জেলখাটা আসামী কালাম মিয়া বলেন,পত্রিকায় এত লেখালেখি করে কি হয়েছে,আমাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে কিন্তু টাকা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে ফেলেছি,বেশি বারাবারি করলে আমাদের গুরু আব্দুর রাজ্জাক ভাইকে দিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দেব।

বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার ফখরুদ্দিন বলেন,আমাদের ক্যাম্পের সোর্স আছে কিনা তা জানতে হবে এবং তারা কি চোরাচালান ও চাঁদাবাজি করে কিনা তাও খোঁজ নিতে দেখতে হবে। চাঁনপুর ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মানিক মিয়া বলেন,আবু বক্কর নামে আমাদের কোন সোর্স নেই,তার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে দেখব। এব্যাপারে জানতে সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিনের সরকারী মোবাইল নাম্বারে বারবার কল করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc