তাজরীনের ফ্যাশনের মালিককে গ্রেফতার,নিহতদের ক্ষতিপূরণ,আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

    0
    4

    তাজরীনের ফ্যাশনের মালিককে গ্রেফতার,নিহতদের লস অব আর্নিং এর ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ,আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবীতে তাজরীন ফ্যাশনের নিহত পরিবার এবং আহত শ্রমিকরা গতকাল শুক্রবার বেলা ১১.৩০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে।

    লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের সভাপতি জনাব আমিরুল হক্ আমিন,
    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা মিস সাফিয়া পারভীন, মিসেস সুলতানা আক্তার। তাজরীন ফ্যাশনের নিহত শ্রমিক পরিবার আনছার আলি, মোঃ হান্নান, মোঃ মোক্তার,মোঃ বাদশা মিয়া,মোঃ কামাল,সোহেল,লাল মিয়া, আহত শ্রমিক শাহানাজ, মৌসুমি,রাজিয়া,মাফুজা,আলেনুর,রেহেনা,আকাশ,তাহেরা সহ প্রায় শতাধিক আহত নিহত পরিবারের সদস্য।
    লিখিত বক্তব্যে ফেডারেশনের সভাপতি জনাব আমিরুল হক্ আমিন বলেন,
    গত ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে। এ অগ্নিকান্ডে ১১২ জন শ্রমিক নিহত এবং দেড় শতাধিক শ্রমিক আহত হয়,অনেক আহত শ্রমিকের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, এমনকি অনেকে পঙ্গু হবার মত অবস্থাও দেখা দিয়েছে। এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, এত প্রাণহানী, এত অধিক সংখ্যক আহত হবার জন্য সকল মহল থেকেই তাজরীনের মালিক সহ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হয়েছে। এমনকি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টেও মালিক ও কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

    তাজরীনের এই ভয়াবহ ঘটনার পর পরই দাবী ছিল – তাজরীনের মালিককে গ্রেফতার,নিহতদের লস অব আর্নিং এর ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ যার পরিমাণ কমপক্ষে ২৫ লক্ষ টাকা,আহতদের প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা এবং ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
    কিন্তু দূভাগ্য জনক হলেও সত্য যে, ১১২ জন শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ী তাজরীনের মালিককে আজও গ্রেফতার করা হয় নাই, বহাল তবিয়তে সে ঢাকা শহরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
    অন্যদিকে নিহত ১১২ পরিবারের মধ্যে মোট ৪৮ পরিবার কে ৬ লক্ষ টাকা করে দেয়া হয়েছে। বাকি ৬৪ পরিবার এখনো কোন ক্ষতিপূরণ পাইনি। নিহত ৫৬ জন শ্রমিককে প্রথমে সনাক্ত করা যায় নাই। এদের মধ্যে ১৮ জনের পরিচয় এখনো সনাক্ত করা যায় নাই। অথচ অনেক পরিবার এখনো তাদের নিখোঁজ সদস্যদের লাশ অথবা সন্ধান পান নাই।
    অগ্নিকান্ডে মোট আহত হয়েছিল প্রায় দেড় শতাধিক শ্রমিক। এদের মধ্যে গুরুতর আহত শ্রমিকের তালিকা হয়েছিল ১১০ জনের। এই গুরুতর আহত ১১০ জনের মধ্যে ৬৪ জনকে ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। বাকিরা কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি।
    আহত শ্রমিকদের প্রাথমিক ভাবে কিছু চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে এদের অধিকাংশ কে বিদায় করা হয়েছে। অনেক আহত শ্রমিক নিজের বা পরিবারের টাকায় এখনো চিকিৎসা করাচ্ছেন। বেশ কিছু আহত শ্রমিকের অবস্থা গুরুতর। এদের দ্রুত উন্নত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না করালে এরা পঙ্গু হয়ে যাবে।
     
    এই সার্বিক অবস্থায় অবিলম্বে তাজরীনের মালিককে গ্রেফতার,নিহত সকল পরিবারকে লস অব আর্নিং এর ভিত্তিতে কমপক্ষে ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ,আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবী জানাচ্ছি।
    এই ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসার প্রধান দায়ভার বহন করতে হবে তাজরীন ফ্যাশনের ক্রেতা অর্থ্যাৎ বায়ারদের।একই সাথে তাজরীন কর্তৃপক্ষ,বিজিএমইএ এবং সরকারকে এই দায়িত্বের অংশীদার হতে হবে।
    এই সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আমরা জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, আহত শ্রমিক এবং নিহত শ্রমিক পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, অবিলম্বে এ সকল দাবী পূরণ না হলে আমরা দেশের অন্যান্য শ্রমিক সংগঠন এবং শ্রমিকদেরকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হব।

    তাজরীনের ফ্যাশনের মালিককে গ্রেফতার,নিহতদের ক্ষতিপূরণ,আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন
    তাজরীনের ফ্যাশনের মালিককে গ্রেফতার,নিহতদের ক্ষতিপূরণ,আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here