টিকফা চুক্তি সম্পাদনে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ হবে : ওয়ার্কার্স পার্টি

    0
    3
    টিকফা চুক্তি সম্পাদনে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ হবে : ওয়ার্কার্স পার্টি
    টিকফা চুক্তি সম্পাদনে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ হবে : ওয়ার্কার্স পার্টি

    ঢাকা, ১৪ মে : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টিকফা চুক্তি সম্পাদনের বিরোধীতা করে বলেছে এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাণিজ্যের প্রশ্নে বাংলাদেশের পক্ষে মার্কিন সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া সম্ভব হবে না। কেবল তাই নয় বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও এর মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ হবে।
    পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পলিটব্যুরোর সভায় এতদ্বিষয়ে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, টিকফা চুক্তি যে বাংলাদেশের স্বার্থানুকুল হবে না সরকারও এই বিষয়টি এতদিন স্বীকার করে এসেছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর কিছু আমলা উপদেষ্টা ও বাণিজ্য মন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহে এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি অনুমোদিত হতে চলেছে। এই ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জিএসপি সুবিধার প্রশ্নকে সামনে আনা হয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের মূল রফতানি পণ্য পোশাক শিল্পকে জিএসপি সুবিধা দেয়নি এবং এই খাতে জিএসপি সুবিধা প্রদানের প্রশ্নকে নানা শর্তের অধীন করেছে। অন্যখাতে যে জিএসপি সুবিধা পাওয়া যায় তা নিতান্তই নগণ্য। অথচ এ ধরনের সুবিধার কথা বলে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে তো লাভবান হবেই না, উপরন্ত সহযোগিতার নামে বাংলাদেশ সামরিকভাবেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাধা পড়বে। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবে বলা হয়, এই চুক্তিতে মুক্তবাজার অর্থনীতি, উদার বাণিজ্যনীতি ও মেধাস্বত্ব আইনের বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি দেশের অর্থনীতিকে পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হবে।
    ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর প্রস্তাবে বলা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার এশীয়-প্যাসেফিক রণনীতি অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় তার উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে তার সামরিক কৌশলগত সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই অঞ্চলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষার উদগ্র আকাংখার পরিপ্রেক্ষিতেই টিকফাসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কিত সকল চুক্তিকেই বিবেচনা করতে হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয় বাংলাদেশ নিজেকে এই অঞ্চলে গণচীনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রন্ট লাইন রাষ্ট্র হতে পারে না। এই অঞ্চলের শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থ বিবেচনায় ওয়ার্কার্স পার্টি টিকফা জাতীয় চুক্তি স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছে।

    ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর প্রস্তাবে টিকফা চুক্তি বিরোধীতাসহ বাংলাদেশকে ঘিরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে আগামী ১৯ মে রবিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ দিবস পালন করার আহ্বান জানান হয়। প্রস্তাবে একই সাথে এই দাবিতে সকল বাম প্রগতিশীল সংগঠনসমূহকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান হয়।

    ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর অপর এক প্রস্তাবে গার্মেন্টস শিল্পে ন্যূনতম মজুরি পুননির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবে রানা প্লাজা ধসে নিহত-আহত গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন দেয়ার সময় বিজেএমইএ কর্তৃক তাদের আইডি নিয়ে নেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয় এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা ভবিষ্যতে কোন ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। প্রস্তাবে রানা প্লাজায় নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে আসা স্বজনদের সহায়তা করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান হয়।

    পলিটব্যুরোর সভায় পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড নুরুল হাসান, কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড শফিউদ্দিন আহমেদ, কমরেড নুর আহমদ বকুল, কমরেড ইকবাল কবীর জাহিদ, কমরেড হাজেরা সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here