Friday 25th of September 2020 06:56:18 PM
Wednesday 13th of January 2016 10:44:19 PM

জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যখন নিজেই রোগী !

বৃহত্তর সিলেট ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যখন নিজেই রোগী !

সাংবাদিক হাসপাতাল এলাকায় প্রবেশে অনুমতি লাগেঃডা. সবুল চন্দ্র বর্মণ।

হাসপাতাল সকলের জন্য উন্মুক্ত, অনুমতির প্রয়োজন নেইঃস্বাস্থ্য প.প.কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ।

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,১৩জানুয়ারী,রেজওয়ান করিম সাব্বিরঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন স্ব-প্রনোদিত রোগী। মেডিকেল অফিসাররা প্রাইভেট চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। হাসপাতালের পূরো এলাকা এখন যেন গণসৌচ্চাগার ও পাবলিক গ্যারেজ। অভিযোগ রোগীদের সাথে অসদাচরন, রোগীরা পাচ্ছে না বিনা মূল্যের ঔষধ। দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ওয়ার্ড গুলোতে। টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় ব্যক্তিগত চেম্বারে। নতুন বেড আসলেও ২০বৎসরের পুরানো বেড দিয়ে চলছে রোগীদের সেবা। মেডিকেল অফিসার সবুল চন্দ্র বর্মণ স্ব-ঘোষিত স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

এলাকাবাসীর মৌখিক অভিযোগ ও সরজমিনে দেখা যায়- জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে আসলে নানা দূর্ভোগ ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। এদিকে প্রাইভেটে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন বেশিরভাগ মেডিকেল অফিসাররা। যারা প্রাইভেটে চিকিৎসা নেন না তাদেরকে সিলেটের এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে থাকেন। এদিকে নামমাত্র চিকিৎসাপত্র লিখে দিয়ে ঔষধ কোম্পনী গুলোর কমিশনের আশায় সরকারি ঔষধপত্র না দিয়ে বাহিরে পাটিয়ে থাকেন সাধারণ রোগীদের। এদিকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কানাইঘাট গোয়াইনঘাট জৈন্তাপুর উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে ফলে কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের এবং গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫নং আলীরগাঁও, ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। অভিযোগ উঠে উপজেলায় আগত রোগীরা নানা ভাবে হয়রানীর স্বীকার হতে হয়। অন্যতায় ডাক্তারা অসৌজন্য মূলক আচরন করে আসছে বলে অভিযোগ উঠে। বিষয়টি সত্যতা অনুসন্ধানে গিয়ে গত ১১জানুয়ারী সকাল ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ডাক্তারদের চেম্বার গুলোতে তালা ঝুলছে। শুধুমাত্র সুবল চন্দ্র বর্মন এর কক্ষ খোলা থাকলেও তিনি বাহিরে রয়েছেন। এসময় সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রোগী ও সাধারন রোগীসহ অভিভাবকরা ডাক্তারের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে স্বচিত্র গ্রহন করা হয় এমনকি হাসপাতালের ভিতরের আশপাশ্ব এলাকার চিত্র সংগ্রহের কাজ চলে। এমতাবস্থায় মেডিকেল অফিসার সুবল চন্দ্র বর্মণ সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে বলেন আপনারা কার অনুমতি নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেছেন। জানেন না “যে কোন সাংবাদিক মেডিকেলে প্রবেশ করতে হলে অনুমতি লাগবে” নিতে হয় বলে অসৌজন্যমূলক আচরন করেন। এসময় বিভিন্ন রোগিরা হাসপাতালের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। ডাক্তাররা নিয়মিত চেম্বারে আসেন না, হাসপাতালের বেডে সেই পুরানো আমলের বেড তালি জোড়া দিয়ে চলছে। রোগীরা বাসাবাড়ী হতে বিছনাপত্র নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের টয়লেট জরার্জীণ ব্যবহার অনুপযোগী। দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বেড জুড়ে। এছাড়া হাসপাতাল এলাকার চারপার্শ্বে গড়ে উঠেছে পাবলিক গ্যারেজ, রাতের বেলা হাসপাতাল এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের নিরাপদ আস্থানা, রোগীরা পাচ্ছেনা সরকারি ঔষধ। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর ছাড়া হয় না। ডাক্তারা নিয়মিত চেম্বারে বসেন না, বসলেও রোগীদের প্রাইভেটে দেখানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এদিকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে সুবল চন্দ্র বর্মণ দায়িত্ব পেয়ে ষ্টোর কিপার শিব্বির আহমদের সাথে যোগ সাজেসে তিনি সরকারের বিনামূল্যের ঔষধ সামগ্রী বাহিরে পাঁচার, চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের নামে বরাদ্ধ নিয়ে টাকা লোপাট করেছে। জেনারেটর না চালিয়ে জ্বালানী তৈল এর টাকা আত্মসাৎ করেছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা বলেন যা কিছু দেখছেন আমরা কি বলব। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার নামে লাখ লাখ টাকা সাবাড় করছে এই কর্মকর্তা ও ষ্টোর কিপার। তাদের দাপটে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয় না।

এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও নিজপাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান বাবুল হাসপাতালের করুন অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন- ডাক্তার সুবল চন্দ্র বর্মণ একজন বেয়াদব অফিসার। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সাধারন রোগীরা আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। তাকে অপসারনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরও বলেন হাসপাতালে আনিত অভিযোগ গুলো এবং অনিয়ম ও দূর্ণিতির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য প.প.কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদের সাথে সরাসরি চেম্বারে আলাপকালে তিনি সাংবাদিকদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কথা স্বীকার করে বলেন- এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আপনাদের আছে আর থাকবে। কিন্তু লোকবল সংকটের কারনে যেখানে দীর্ঘদিন হতে জনসাধারনের প্রবেশে বাঁধা নেই সেখানে শুধুমাত্র সাংবাদিকরা প্রবেশে কেন বাঁধা থাকবে। কি কারনে তিনি আপনাদের বলেছেন বিষয়টি আমার বোদগম্য নয় তবে খতিয়ে দেখছি। উন্নয়নের বিষয় আমি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি যেহেতু এই কমপ্লেক্সে আমি নতুন যোগদান করেছি। সব কিছু ঠিকঠাক করতে একটু সময় লাগবে।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদুর রহমান বলেন- জৈন্তাপুর হাসপাতল সত্যিই নিজেই রোগে ভূগছে। জনসাধারনে অভিযোগের ভিত্তিত্বে আমি কয়েক বার সরেজমিনে গিয়েও নির্দেশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে নিচ্ছে না। গন শুনানির জন্য আগামি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

এবিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন- ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- আমি হাসপাতাল কয়েকবার পরিদর্শন করে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কথা বলেছি কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন কর্ণপাত করছে না। বিষয়টি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হউক।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc