Thursday 22nd of October 2020 12:40:26 AM
Friday 25th of September 2020 11:47:06 AM

জৈন্তাপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের শিশু ছাত্র নির্যাতনের চিত্র

অপরাধ জগত, শিক্ষা ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
জৈন্তাপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের শিশু ছাত্র নির্যাতনের চিত্র

রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ  সিলেটের জৈন্তাপুরে মসজিদের পাঠদানকারী শিক্ষক কর্তৃক ফ্লাক্সের গরম চা ঢেলে ৭ বৎসরের শিশুর শরীর জ্বলসে দিয়েছে। প্রতিকার চাইলে ও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করেনি মহল্লাবাসী। ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান আইনের সহায়তা নিতে। জানা যায়  সংবাদ লেখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শিশুর মা ও বাবা প্রতিবেদককে জানান, ২২ সেপ্টেম্বের মঙ্গলবার সকাল অনুমান ৬টায় “হেমু তিনপাড়া পশ্চিম মহল্লা জামে মসজিদে”র মক্তবে যায়। জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেহপুর (হরিপুর) ইউপির “হেমু মাঝপাড়া” গ্রামের এখলাছ উদ্দিনের ছেলে হেমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র শাহরিয়ার নাফিজ নাবিল (৭)। নাফিজ মক্তবে সহপাটির সাথে আলাপ করতে দেখে রেগে গিয়ে মক্তবের পাঠদান শিক্ষক হেমু ভাটপাড়া গ্রামের বড়হুনার ছেলে “হেমু দারুল উলুম মাদ্রাসা”র শিক্ষক আব্দুল করিম (২৭) ফ্লাক্স হতে গরম চা এনে শিশুর শরীরে ঢেলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির শরীর জ্বলসে যায়। এই অবস্থায় মসজিদের অন্যান্য ছাত্ররা শিশুটিকে বাড়ী পৌছে দেয়।

এ ঘটনার বিষয়টি দামাচাঁপা দিতে এবং চাকুরী করার প্রয়োজনে নির্যাতিত শিশু ছাত্রের অভিভাবক এখলাছ হবিগঞ্জে সিরামিক ফ্যাক্টরীতে থাকার সুবাধে স্ত্রীকে বিষয়টি কাউকে না জানাতে চাঁপ প্রয়োগ করেন। ঘটনার পর প্রভাবশালীদের চাপে স্ত্রী শিশুটিকে স্থানীয় ফার্মেসীতে চিকিৎসাদেন এবং স্বামী এখলাছ মিয়াকে খবর দেন। খবর পেয়ে স্বামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বাড়ী ফেরেন এবং শিশু নাবিলের অবস্থা দেখে আজ ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার বিষয়ে জানতে মসজিদে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান সেই শিক্ষক এখনও পাঠদান করছেন। তাই বিষয়টি গ্রামের মুরব্বীদের জানালে এখলাছকে বিভিন্ন ভাবে হুমকী ধমকী প্রদান করে এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেত চেষ্টা করে। নিরুপায় হয়ে এখালাছ বিষয়টি ফতেপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাহির পছা মিয়া জানালে শিশুটির অবস্থা দেখে তিনি তাদেরকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন।

শিশুর পিতা আরও জানান মক্তবের পাঠদান শিক্ষকের এমন আচরণ দেখে কোন পিতা-মাতা তা মেনে নিতে পারবে না, তিনি শুধু মাত্র মক্তবের শিক্ষক নন তিনি অত্র এলাকার দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “হেমু দারুল উলুম মাদ্রাসায়” শিক্ষকতা করেন। তার কাছ হতে শিশু নির্যাতন করা আমি আশা করিনি। বর্তমানে আমার ছেলেটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাচ্ছি চিকিৎসা কাজ শেষে আমি থানায় মামলা দায়ের করব।
বিষয়টি জানতে এলাকার অনেকের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন গত মঙ্গলবার মসজিদের মক্তবের শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ট তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছি।
এবিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মহসিন আলী ও অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ওমর ফারুক বলেন শিশু নির্বাতনের বিষয় নিয়ে কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। যদি অভিযোগ আসে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc