Wednesday 19th of December 2018 02:00:08 AM
Sunday 11th of November 2018 10:20:06 PM

জুড়ীতে বাগানগুলোর গাছে শোভা পাচ্ছে সুস্বাদু কমলা

অর্থনীতি-ব্যবসা, জীবন সংগ্রাম ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
জুড়ীতে বাগানগুলোর গাছে শোভা পাচ্ছে সুস্বাদু কমলা

এমএম সামছুল ইসলাম, জুড়ী (মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বাগানগুলোতে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে সুস্বাদু কমলা। পাহাড়ি জনপদের কমলা চাষিদের মুখে বইছে আনন্দের ঝিলিক। এ কমলাই বদলে দিয়েছে চাষিদের জীবন। কমলা পাকতে শুরু করায় ইতোমধ্যে বেচা-কেনা শুরু হয়ে গেছে। কমলা ফলন ভালো হওয়ায় ও বাজারদর সন্তোষজনক হওয়ায় চাষিরা গাছ থেকে কমলা সংগ্রহ করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাকা, আধা পাকা কমলা সংগ্রহ ও খাঁচাবন্দি করে পাইকারদের হাতে তুলে দিয়ে টাকা গুনতে গুনতে প্রশান্তির হাসি মুখে ঘরে ফিরছেন চাষিরা।

এ অঞ্চল থেকে এ বছর প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি কমলা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন চাষিরা। গত বছরের চেয়ে এ মৌসুমের দু’তিনগুন বেশি কমলার ফলন ও বিক্রি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন চাষি ও সংশ্লিষ্টরা। অধিক মুনাফা লাভের আশায় ক্রেতা ও চাষিরা পাকা ও আধা পাকা কমলা স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজধানী ঢাকা, ভৈরব, চিটাগাং ও সিলেটে পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকযোগে নিয়ে বিক্রি করছেন।

উপজেলা গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লালছড়া, শুকনাছড়া, ডুমাবারই, লাঠিটিলা, লাঠিছড়া, হায়াছড়া, কচুরগুল, সাগরনাল ইউনিয়নের পুটিছড়া, পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের কালাছড়া, টালিয়াউড়া এবং জায়ফরনগর ইউনিয়নের বাহাদুরপুরসহ অন্যান্য গ্রামের টিলা বাড়িগুলোতে কমলার পাশাপাশি বাতাবিলেবু, আদালেবু, শাসনি ও জাড়া লেবুর বাগান রয়েছে। আর এ বাগানগুলোতে সর্বদা পরিচর্যা করা ওই গ্রামগুলোর মানুষের পেশায় রূপান্তরিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এক একটি বাগান থেকে প্রায় ২/৩ লাখ টাকার ফলন পাওয়া যায়। কমলা চাষে যেমন খরচ কম, তেমন শ্রমও দিতে হয়না এমনটাই জানিয়েছেন অত্রা লের কৃষকরা। ফলে, কমলা চাষে কৃষকরা আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বিও হচ্ছেন। জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৯১ হেক্টর জমিতে ৮৪টি কমলা বাগান গড়ে উঠেছে। তন্মধ্যে গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নে শতকার ৮০ ভাগ বাগান রয়েছে। অধিকাংশ কমলা খাশি জাতের চাষাবাদ হচ্ছে।

ওই বাগানগুলো থেকে চলতি মৌসুমে ৫০০ মেট্রিকটন কমলা লেবুর ফলন প্রাপ্তির আশা রয়েছে। শুকনাছড়া গ্রামের কমলা চাষি আব্দুর রহিম (৪৮) এ প্রতিবেদককে বলেন, কমলা এক বছর বেশি হলে অন্য বছর কম হয়। প্রাকৃতির নিয়ম অনুযায়ী এবারের ফলন ভালো হয়েছে, আকারেও বড়। তিনি বলেন, এবারে কমলার বাজার মূল্য গত বছরের চেয়ে বেশি। ইতোমধ্যে প্রায় লক্ষাধিক টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। আরো প্রায় দেড় লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ রায় জানান, কমলা একটি ছায়া পছন্দকারী বৃক্ষ। শুধু একক বাগান হলে সানবার্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কৃষকরা যদি সঠিকভাবে সুষম সার ব্যবহার করে এবং পোকা-মাকড় ও রোগ বালাই দমনের জন্য নিয়মিত বালাই নাশক স্প্রে/সেক্সফরমুন ফাঁদ ব্যবহার করে, তাহলে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি কমলার আকাড়ও বড় হবে। তাছাড়াও অত্রা ালের কৃষকরা মাল্টা, আদা, জাড়া ও বাতাবি লেবু ফলনে আগ্রহ দেখাচ্ছে।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc