চা-শ্রমিকদের একটাই দাবী প্রধানমস্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে চাইঃঅন্য কাউকে বিশ্বাস করিনা  

0
113
চা-শ্রমিকদের একটাই দাবী প্রধানমস্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে চাইঃঅন্য কাউকে বিশ্বাস করিনা  
চা-শ্রমিকদের একটাই দাবী প্রধানমস্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে চাইঃঅন্য কাউকে বিশ্বাস করিনা  

নূর মোহাম্মদ সাগর শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিতে দাবীতে চা শ্রমিকদের আন্দোলন শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না। সাধারণ চা শ্রমিকরা দ্বিতীয়বারের মতো ৩শ টাকা মজুরীর দাবীতে এখনো কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত রাতের মিটিং এ অংশগ্রহণকারী শ্রীমক নেতাদের দালাল, চিটার এবং ধান্ধাবাজ বলে শ্লোগান দিচ্ছে এবং রাতের অন্ধকারে কোন চুক্তি তারা মানে না এবং মানবেও না বলে শ্লোগান দিচ্ছে।

তবে আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতা কালিঘাট পঞ্চায়াত সভাপতি অবান তাতীঁ জানান, দাবী প্রধানমন্ত্রী যদি ভিডিও কনফারেন্সে, বা টেলিভিশনে অথবা কোন লাইভে এসে তাদের দাবীর প্রতি সরাসরি বক্তব্য রাখেন এবং বলেন, তিনি তাদের মজুরীর একটি স্থায়ী

সমাধান দিবেন তাহলে তারা কাজে যোগ দিবে। নয়তো তারা কাজে যোগ দিবেন না। তাদের সাফ কথা “প্রধানমস্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে চাই মুজুরির কথা অন্য কাউকে বিশ্বাস করিনা”  

তারা তাদের কোন নেতা বা কোন রাজনৈতিক নেতাদের তারা বিশ্বাস করেন না।তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান।

শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা যায় চা শ্রমিকরা দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছে। এবং কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের ঘটনা ও ঘটছে। দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহা সড়কের লছনা ও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের কিছু সময় চা শ্রমিকরা অবরোধ করে রাখে। কাজে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে তাদের সন্দেহ হচ্ছে।কেনোনা সাধারণ শ্রমিকরা বিষয়টি ক্লিয়ার না বুঝার কারণে আরো হতবাক হয়েছে, তারা ভাবছে যেখানে প্রধানমস্ত্রী আগে ১৪৫ টাকা মজুরী নির্ধারণ করে দেন, সেখানে রাতের গোপন সমঝোতায় আবার আগের মজুরী ১২০ টাকা হলো কি করে? এতে তারা আরো বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তা তারা তাদের নেতাদের কাছ থেকে জানতে চান।

জানা যায়, সোমবার (২২ আগস্ট) ৯টায় রাতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে জরুরী বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। ওই সভা শেষ হয় রাত দেড় টায়। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, উপ-শ্রম পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, বালিশরা পঞ্চায়াত সভাপতি বিজয় হাজরাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য শ্রমিক নেতারা। পরে যৌথ বিবৃতিতে তারা ৫ টি দাবী গ্রহণের মাধ্যমে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত গুলো হলো-প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখে তার সম্মানে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে ২২ আগস্ট থেকে কাজে যোগদান করবেন। আপাতত চলমান মজুরি অর্থাৎ ১২০ টাকা হারেই শ্রমিকগণ কাজে যোগদান করবেন। এবং মাননীয় প্রধানমস্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্স পরবর্তীতে মজুরীর বিষয়টি সদয় বিবেচনার পর চুরান্তভাবে নির্ধারণ হবে মর্মে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ দাবি জানান। আসন্ন দুর্গাপুজার পূর্বে প্রধানমস্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে অথবা অন্য কোন উপায়ে সংযুক্ত হওয়ার জন্য চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আবেদন করবেন যা জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রধানমস্ত্রী কার্যালয়ে উপস্থাপিত হবে। চা-শ্রমিকদের অন্যান্য দাবী সমুহ লিখিত আকারে জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করবেন। জেলা প্রশাসক প্রধানমস্ত্রীর সদয় বিবেচনার জন্য দাবীসমূহ প্রধানমস্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করবেন‌‌ এবং বাগান মালিকগণ বাগানের প্রচলিত প্রথা-দপ্তর মোতাবেক ধর্মঘট কালীন মজুরী শ্রমিকগণকে পরিশোধ করবেন।

এ সমঝোতাও ঘোষণার পর সোমবার সকালে শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগদেন এবং কাজের মাঝ পর্যায়ে তাদের কাছে খবর আসে কালিঘাট চা বাগানে মারামারি হচ্ছে। যারা কাজে যোগ দিচ্ছে তাদের মারা হচ্ছে। মিছিল নিয়ে ভাড়াউড়া চা বাগানের দিকে আসছে। এ খবরে মহিলা শ্রমিকরা কাজ পেলে ভিত সংস্ত্রস্ত হয়ে তারা বাড়ী ফিরে যাচ্ছে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন ও শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম উর রশীদ তালুকদার ভাড়াউড়া চা বাগানে গিয়ে শ্রীমকদের সাথে কথা বলেন এবং তার আশ্বস্ত করেন প্রধানমস্ত্রী চা শ্রমিকদের মজুরীর বিষয়ে স্থায়ী একটি সমাধান দিবেন। পরে তারা কালিঘাট যেতে চাইলে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের শ্রমিকদের দেখতে পেয়ে তাদের বুঝানো চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হন।

ঐদিকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল জানান, প্রধানমস্ত্রীই আমাদের একামাত্র ভরসা। তারা প্রধানমস্ত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। কিছু চা শ্রমিক তাদের ভূল

বুঝে সাধারণ শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ হয়ে যাচ্ছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন প্রশাসনও তাদের একটু সময় দিতে চায়, শ্রমিকরা বলেছে তারা নাকি রাতের আধারে সমঝোতা করছে, এখন গালি শুনছেন। রাতে এভাবে মিটিং না করে একটু সময় নিয়ে করলে হয়তো এখন এ সমস্যা হতো না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here