ঘূর্ণিঝড় মহাসেন এগুচ্ছে : উপকূলে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

    0
    6
    ঘূর্ণিঝড় মহাসেন এগুচ্ছে : উপকূলে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
    ঘূর্ণিঝড় মহাসেন এগুচ্ছে : উপকূলে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

    ঢাকা, ১৫ মে : বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় মহাসেন উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে বাংলাদেশ উপকূলের ৮০০ কিলোমিটারের ভেতরে চলে আসায় চট্রগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল জেলা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো এই সংকেতের আওতায় থাকবে। এছাড়া মংলা বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার রাত থেকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
    আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় চট্টগ্রাম থেকে ৮৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম, কক্সবাজার থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম এবং মংলা থেকে ৭৬০ কিলেমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল মহাসেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার ভোর নাগাদ চট্টগ্রামের কাছ দিয়ে খেপুপাড়া টেকনাফ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
    মঙ্গলবার বিকেলে সবিচালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির এক সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড় উপকূলের ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে এলে স্থাপিত ডপলার রাডারের মাধ্যমে জানা যাবে কোথায়-কখন-কিভাবে আঘাত হানবে। বুধবার রাতে এ বিষয়টি স্পষ্ট হবে। সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, উপকূলীয় ১৩টি জেলার সাতটি অঞ্চলের ৩৭টি উপজেলার ৩২২টি ইউনিয়নে সর্বাত্মক প্রস্তুতির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এসব এলাকায় সাইক্লোন প্রস্ততি কর্মসূচির ৪৯ হাজার ৩৬৫ জন প্রশিক্ষিত সেচ্ছাসেবক আগাম সতর্ক বার্তা প্রদানে কাজ করছে।
    মন্ত্রী বলেন, মহাসেন আঘাত হানলে দুর্গতদের আশ্রয়ে তিন হাজার ৭৭০টি আশ্রয় কেন্দ্র কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল স্কুল আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে স্কুলগুলো ছুটি দেয়া হবে। ত্রাণ তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপকূলীয় ১২টি জেলার প্রত্যেকটিতে অতিরিক্ত তিন লাখ করে টাকা ও একশ’ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
    আজ সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মহাসেন টেকনাফ থেকে মিয়ানমার উপকূলে আঘাত হানলেও ঝড়ের প্রভাব পড়বে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূলজুড়ে। ঝড়টি মাঝারি মাত্রার বলে এখন পর্যন্ত ধারণা করা হলেও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উপকূলের চার-পাঁচশ’ কিলোমটারের মধ্যে এলে এর তীব্রতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
    গত শনিবার বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল থেকে এক হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে নিম্নচাপ সৃষ্টির পর এক’শ কিলোমিটার এগিয়ে তা ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে রূপ নেয়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here