গণধর্ষণের এই শিকারিরা ভয়ঙ্কর প্রেমিক

    0
    9

    যশোর থেকে বেনাপোল সংবাদ দাতাঃ  সম্প্রতি এক কিশোরীর গণধর্ষণ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গত শনিবার (০৪ জানুয়ারি) দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গত ২ নভেম্বর এক কিশোরীকে (১৫) অসুস্থ অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই কিশোরী গণধর্ষণের অভিযোগ করে ওই দিনই কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করে। কোতোয়ালি ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতারে তাৎক্ষনিক অভিযান শুরু করে।

    তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (০২ জানুয়ারি) ভোরে মামলার প্রধান আসামি পুষ্পকে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ীা শুক্রবার (০৩ জানুয়ারি) রাতে গোপালগঞ্জের খড়কি এলাকা থেকে অপর আসামি রায়হান ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    স্থানীয় সুত্র,প্রাথমিক তদন্ত, বাদীর সাক্ষ্য, আসামিদের  দেওয়া তথ্য এবং পুলিশের সুত্রে জানা যায়, এই কিশোর গ্যাং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথমে প্রেমের ফাঁদ তৈরি করে এক পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যাবার বাহানা করে দূরে কোথাও নিয়ে কিশোরীদের প্রথমে প্রেমিক কর্তৃক ধর্ষণ করে পরে “দেখে ফেলেছি” “বলে দিব” হুমকির মুখে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পর্যায় ক্রমে অন্য সদস্যরা ধর্ষণ করে।ঠিক এবারো একই কায়দায় আল আফসান পুষ্প প্রথমে ওই কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।

    গত ১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে খড়কি ডাক্তারবাড়ির পেছনে বাগানের ভেতর নিয়ে যায় পুষ্প। সেখানে জোর করে কিশোরীকে মদ খাইয়ে গণধর্ষণ করে পুষ্প, তার বন্ধু রায়হান, শাকিল, রবিউল ও শাহদিয়া। এর পর কিশোরীকে পুষ্পের বন্ধু শহরের লোন অফিসপাড়ার হৃদয়ের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় কিশোরীকে গণধর্ষণ করে পুষ্প, ভাগ্নে মামুন, হৃদয় ও ন্যাটা মামুন। পরদিন ২ নভেম্বর কিশোরীকে যশোর পৌরপার্কে নিয়ে যায় হৃদয়, ভাগ্নে মামুন ও ন্যাটা মামুন। সেখানে কিশোরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে উঠতি বয়সী তরুণী ও কিশোরীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব িএবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বন্ধুদের নিয়ে গণধর্ষণ করে এই কিশোর গ্যাং। পাশাপাশি এরা মাদকের সঙ্গেও জড়িত। এই গ্যাংয়ের অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। পাশাপাশি এই চক্র আরও কী কী অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাও খতিয়ে দেখা হবে।

    গ্রেপ্তার কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য হলেন শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আল আফসান পুষ্প, খড়কি দক্ষিণ হাজামপাড়ার আব্দুর রশিদের ছেলে রায়হান (২০) ও সোহরাব হোসেনের ছেলে শাকিল (২০)।