Friday 19th of July 2019 03:59:21 PM
Tuesday 25th of June 2019 01:32:46 PM

কেমন হয়েছে এবারের বাজেট ? 

নাগরিক সাংবাদিকতা ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
কেমন হয়েছে এবারের বাজেট ? 

প্রথমেই চোখে পরেছে এবারের বাজেট এতোটাই ভয়াবহ হয়েছে যে অর্থমন্ত্রী বাজেট পড়তে গিয়ে নিজেই সহ্য করতে পারেননি, স্বয়ং মানসিক চাপে নিজেই হসপিটাল যেথে বাধ্য হয়েছে। বাজেটের বাদ বাকি অংশ প্রধানমন্ত্রী নিজে পড়তে বাধ্য হয়েছে, এমন বাজেট কি কখনও হয়েছে?
এবারের বাজেটে নতুনত্ব হচ্ছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ‘জনপ্রশাসন’ খাত, যা আগে কখনও হয়নি, এইবার কেন করা হয়েছে? অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতকে কেনই বা প্রধান্য দেওয়া হয়নি? সিপিডির মতে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট হয়েছে ধনীকে ধনী আর মধ্যবিত্তকে গরীব বানানোর বাজেট, মধ্যবিত্তদের ধরা হয়েছে শুধু করের বেলায়। গত কয়েক বছরের মতই এই বছরও করমুক্ত আড়াই লক্ষ টাকাতেই স্থির রাখা হয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ন্যুনতম ব্যয় কয়েক বছর যাবত কি একই? অথচ গত কয়েক বছরের মত এইবারও মাসে ২০’৮৩৩/- টাকায় একটি পরিবারের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হবে যদি না মেটে তাহলে তার অতিরিক্ত বাড়তি এক টাকা খরচ করলেও তার জন্য সরকারকে অবশ্যই কর দিতে হবে। অর্থমন্ত্রী আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন এই বছরেই করদাতা ১ কোটিতে নিবেন, পরে সেটাকে উনি ৪ কোটিতে নিবেন। একদিকে ঋণখেলাপীরা কর, ঋণ মওকুফ পাচ্ছেন অথচ যারা কায়ক্লেশে বেঁচে থাকাবেন তাদের এদেশে এখন থেকে করের আওতায় থাকবেন ভাবাযায়?
আরেক মজার ব্যাপার হলো, গত ১০ বছর ধরে একটা কথাই বার বার শুধু বাজেটের সময় শুনে আসছি সেটি হলো এই বাজেট ব্যবসা ও বিনিয়োগ বান্ধব। গত ৭ বছরের সরকারি তথ্য মতে, বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপি’র ২২-২৩ শতাংশ আর সরকারি বিনিয়োগ ৬-৮ শতাংশ। ব্যবসা-বাণিজ্য-কর্মসংস্থানের বেশীরভাগই বেসরকারি খাতে। তাহলে ফলাফল হলো কি?
ভুটানের বাজেটে দেখুন, সর্বোচ্ছ গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষা আর চিকিৎসা যেখানে চাকরিতেও সর্বোচ্চ বেতন পাবেন শিক্ষক ও চিকিৎসকরা। ৫ জুন ২০১৯ তারিখে বাজেটের আগে ভুটানের মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয় যে শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স এবং মেডিকেল কর্মকর্তারা পাবেন সর্বোচ্চ বেতন। অর্থাৎ স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে আর আমাদের এটা প্রয়োজন নেই কারণ ক্ষমতাবানরা যখন অসুস্থ হন তখন দৌড়ায় সিঙ্গাপুর, ইউরোপ আর আমেরিকায়। আর বাকী ৯৮% মানুষ যাদের টাকা এবং ক্ষমতা কোনোটাই নেই তারা কোথায় যাবে? এই ৯৮% মানুষের কথা বাজেটের সময় একবারও ভাবলো না এই সরকার ?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়র পদার্থ বিজ্ঞানের প্রফেসর কামরুল হাসান মামুন একটি রিপোর্টে বলেছিলেন, সুইডেনে কেবল প্রধানমন্ত্রী গাড়ি পান, এমপি মন্ত্রীদের জন্য গণপরিবহন। বাংলাদেশে উপজেলার ইউএনও কৃষি অফিসার থেকে শুরু করে সচিব, এমপি মন্ত্রীতো আছেই। আবার সেইসব গাড়ির হর্ন থাকবে আমজনতার গাড়ির হর্ন থেকে ভিন্ন যেন ট্রাফিক পুলিশ বুঝতে পারে উল্টো পথে গেলেও এরে থামানো যাবে না। শুধুই কি গাড়ি? সাথে সরকারি খরচে তেল, ড্রাইভার, বাড়ি, বাবুর্চি। শিক্ষা ক্ষেত্রে বাজেটের সময় টাকা নাই নামক হাহাকার। আর গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কিংবা লুটপাটের ক্ষেত্রে ভাবখানা আমরা ধনী হইয়া গেছি। এখন কি আর ফইন্নির মত থাকা যায় বা চলা যায়? বা লুটপাট করলে কি আর অল্প টাকা করা যায়? এখন হাজার কোটি টাকার নিচে কোন চুরিই না। অর্থাৎ এখন যারা সরকারি চাকর কিংবা সেবক তারাই নিজ দায়িত্বে মিলেমিশে বরাদ্দের টাকা চেটেপুটে খাওয়ায় ব্যস্ত।
গবেষণা সংস্থা সিপিডি বলেছে, বাজেটে ধনীদের জন্য অনেক কিছু থাকলেও কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই। বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, আর আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে অর্থবছরটি শুরু করবে। গত ১০ বছরে দেখা গেছে, অর্থমন্ত্রী বছরের শুরুতে বিরাট অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করেছে আর বছরের শেষে গিয়ে বাস্তবায়ন করতে না পেরে কাটছাঁট তামাসা করেছে। খেলাপি ঋণ সংস্কৃতির অবসানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী বললেও কীভাবে সেটি করবেন, তারও পথ নকশা বাজেট বক্তৃতায় পাওয়া গেল না। বাজেটে স্পষ্ট বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যে কৃষকেরা দিনরাত পরিশ্রম করে খাবার জোগান, তাঁদের জন্য কোনো সহায়তা না বাড়িয়ে শস্য বিমার মাধ্যমে দুর্যোগ, দুর্বিপাকের সহায়তার কথা বলা হয়েছে। মানে দুর্যোগ না এলে কৃষক সহায়তা পাবে না, ভাবা যায় পৃথিবীতে কি এমনটি হয়েছে?
গত শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন “বাজেট নিয়ে সমালোচনাকারীরা অসুস্থ”। প্রধানমন্ত্রী হয়ে উনিই বাজেটের শেষ অর্ধেকাংশ পড়লেন আবার উনিই বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন করলেন! অথচ জাতীয় সংসদে এবারও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিরোধী দল অনুপস্থিত এবং ৬৪ শতাংশ সংসদ সদস্যই হচ্ছেন ব্যবসায়ী, সেজন্য বাজেটের অঙ্গীকারের কোনো রাজনৈতিক বাস্তবতাও নেই, নেই কোন সাধারণ মানুষের কল্যানের ছোয়া। যেদেশে কোটি কোটি স্টেকহোল্ডারের বাদ দিয়ে মাত্র গুটি কয়েক স্টেকহোল্ডারের পক্ষে বাজেট রাখা হয় সেদেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ সহজেই অনুমেয়।

সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc