Saturday 26th of September 2020 11:51:24 PM
Monday 6th of May 2013 09:02:55 PM

হেফাজতীদের তাণ্ডবে যে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তার দায়ভার বিএনপি ও তার নেত্রী খালেদা জিয়াকেই নিতে হবে : রাশেদ খান মেনন

সাধারন ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
হেফাজতীদের তাণ্ডবে যে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তার দায়ভার বিএনপি ও তার নেত্রী খালেদা জিয়াকেই নিতে হবে : রাশেদ খান মেনন

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপির হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও জরুরি প্রেস ব্রিফিং

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপির হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও জরুরি প্রেস ব্রিফিং

ঢাকা, ০৬ মে : ঢাকায় হেফাজতের অবরোধ শেষে শাপলা চত্বরে সমাবেশের নামে পল্টন-মতিঝিল-বিজয় নগর, বায়তুল মোকাররম, স্টেডিয়াম, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, নয়া পল্টন, ফকিরাপুলসহ বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কমরেড রাশেদ খান মেনন পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা কিসমত জাহান আকন লাভলু, কামাল চৌধুরি, ডা. দিলীপ রায়, এনামুল হক আবুল, ফারজানা ডলি, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা কামরূল আহসান, কিশোর রায়, আবুল হোসাইন, মোস্তফা আলমগীর রতন, রফিকুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।
মেনন এ সময় বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন। তিনি এ সময় ধর্মের নামে অরাজকতা, নৈরাজ্য ও তাণ্ডবের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানান। তিনি জান-মালের নিরাপত্তার জন্য ব্যবসায়ীদের সজাগ থাকারও অনুরোধ করেন।  

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে আজ ৬ মে বিকেল ৪.৩০ মিনিট শহীদ আসাদ মিলনায়তনে জরুরি প্রেস ব্রিফিং-এ বলেন,  আজকে অত্যন্ত দুঃখভরাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের সামনে আমি হাজির হয়েছি। আপনারা গতকাল মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবারোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশকে কেন্দ্র করে পল্টন মোড় থেকে শুরু করে মতিঝিল হয়ে ইত্তেফাক মোড় ও অন্যদিকে বিজয় নগর থেকে নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুল পর্যন্ত হেফাজতীদের তাণ্ডব প্রত্যক্ষ করেছেন। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানের আগে রাত ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত তারা তাদের তাণ্ডব অব্যাহত রেখেছে এবং তারা যখন শাপলা চত্বর ছেড়ে চলে যায় তখনও মতিঝিল শাপলা চত্বরের দু’পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার পাশে রাখা গাড়ি তাদের তাণ্ডব থেকে রক্ষা পায়নি। আপনারা জানেন এ অঞ্চল আমার নির্বাচনী এলাকা। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র এই মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় যেমন বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অফিস ও স্থাপনা রয়েছে, তেমনি এই অঞ্চলের রাস্তার দুপাশের বিপুল সংখ্যক হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের ছোট ছোট দোকান দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকেন। এখানেই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম বিপনী বিতান রয়েছে। আজ সকালে সমস্ত অঞ্চল পরিদর্শন করে আমি যে দৃশ্য দেখেছি তা ’৭১-এর ঘটনাবলীকেও হার মানায়। এক প্রচণ্ড দানবীয় নৃশংসতা নিয়ে বেলা ১১টায় থেকে হেফাজতে ইসলাম এবং তাদের ছদ্মবরণে জামাত শিবির কর্মীরা প্রথমে পল্টন মোড় ও বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট পরে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট ও গুলিস্তান এলাকায় এক চরম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করে। তাদের এই আক্রমণ ছিল পরিপূর্ণভাবে পরিকল্পিত। আজকের সমস্ত ঘটনাবলী দেখে আমার প্রত্যয় জন্মেছে যে, এই তাণ্ডবলীলায় প্রশিক্ষিত বাহিনীই কাজ করেছে। পল্টন মোড় থেকে বিজয় নগর হয়ে কাকরাইল পর্যন্ত রাস্তার উপর যে গাছগুলো ছিল তা কড়াত দিয়ে কাটা হয়েছে এবং একটা দুটো নয় বেশ কিছু করাতই ছিল। অন্যদিকে পল্টন থেকে শাপলা চত্বর হয়ে ইত্তেফাক মোড় পর্যন্ত যে রাস্তার মধ্যেকার আইল্যান্ডে নির্মিত লোহার বেস্টনিগুলোকে একইভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনী দ্বারা কেটে ফেলা হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি অফিস, মুক্তিভবনের লোহার ক্যাচি গেটটি গ্রোড়ালো বিস্ফোরক দিয়ে এমনভাবে উপড়ানো হয়েছে যে, গেটটি অন্যপারে গিয়ে পড়েছে এবং মুক্তি ভবনের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিস্ট পার্টির অন্য কক্ষগুলোতে গান পাউডার দিয়ে আগুন দেয়া হয়। ঐ ভবনের বিপরীতে র‌্যাংগস ভবনেও একইভাবে আক্রমণ চালানো হয়। ঐ বিল্ডিং-এ অবস্থানরত দৈনিক সকালের খবরের ও পাশে অবস্থিত বাসসের সাংবাদিকরাও আটকা পড়েন। হাউস বিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেটিং ভবনের নিচ তলায় রাখা সমস্ত গাড়ী ভস্মিভূত করা হয়েছে। তার পাশের ভবন আইডিয়াল প্রডাক্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের আক্রমণের আর একটি লক্ষ্য ছিল সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অফিস কর্মচারিদের বহনকারী বাসসমূহ। কয়েকশত লোক গেট ভেঙ্গে দেয়াল টপকিয়ে ১৮টি বাস ভস্মিভূত করে এবং ২৮টি বাস ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর মধ্যে ৬টি নতুন বাস ছিল। হেফাজত জামাতের এই বাহিনী ব্রাক ব্যাংকের এটিএম বুথ ভেঙ্গে টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এরকম বেশ কয়েকটি ব্যাংকে হামলা চালায়। তাদের আর একটি লক্ষ্য ছিল বায়তুল মোকাররমের সোনার দোকানগুলো লুট করা। তারা বিভিন্ন সোনার দোকানে আক্রমণ চালায়।

কমরেড রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, হেফাজতী জামাত-শিবিরের এই তাণ্ডবের মূল শিকার হয়েছে রাস্তার দু’পাশে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা কার্যত সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। এদেরকে কেন আক্রমণ করা হলো সেটা বোধগোম্য নয়। রাস্তার দু’পাশে কাপড়ের দোকান, বইয়ের দোকান, চশমার দোকান, মনিহারী দোকান, ক্যাসেটের দোকানসহ নানাপ্রকার পশরা সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়েছে। মুক্তিভবনের নিচে ও বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বইয়ের দোকানগুলো বিশেষ করে ইসলামী বইয়ের দোকান থেকে কোরআর শরীফ, হাসিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় বই নিয়ে এসে আগুনে নিক্ষেপ করে। পল্টন মোড় ও বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে গেলে আপনারা এর নিদর্শন দেখতে পাবেন। যে ইসলামের হেফাজতের জন্য তারা এই তাণ্ডব করেছে সেই ইসলামই তাদের হাতে নিগৃহীত হলো। এসব ঘটনাবলীই তার প্রমাণ। বায়তুল মোকাররমের মুসল্লিরাও এসময় নামাজ পড়তে যেতে পারেনি। আসলে ইসলাম নয়, হেফাজত ইসলাম জামাতের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্যই তারা এই তাণ্ডব অনুষ্ঠিত করে।

কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক যে, হেফাজত ও জামাতের এই তাণ্ডবে বিরোধী দল সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। হেফাজতী জামাতীদের সাথে তাদের কর্মীদের ঘোষণা দিয়ে অংশগ্রহণ ছিল। বিশেষ করে হেফাজতীদের পাশে দাড়ানোর জন্য বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার আহ্বানের পরেই এই তাণ্ডব চূড়ান্ত রূপ গ্রহণ করে। এই তাণ্ডবের ফলে যে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তার দায়ভার বিএনপি ও তার নেত্রী খালেদা জিয়াকেও গ্রহণ করতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা পরিপূর্ণভাবেই রাজনৈতিক দাবি। তাদের এই দাবি মেনে নিলে দেশকে মধ্যযুগীয় পর্যায় নিয়ে যাওয়া হবে। হেফাজতকে কোন প্রকার ছাড় না দেয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারপরও গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকার তাদেরকে তাদের কর্মসূচির পালনের সকল প্রকার সহযোগিতা করেছে। এই মোনাফেকরা কত ভয়ংকর হতে পারে গতকালের ঘটনাবলী তার প্রমাণ। বস্তুতঃ জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই তারা এই দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিরোধী দল বিএনপি তাদের সাথে যুক্ত হয়ে আল্টিমেটাম দিয়ে তাকেই আরও এগিয়ে নিয়েছে। গতকালের ঘটনায় হেফাজত-জামাত-বিএনপি ষড়যন্ত্রের চেহারা এতই স্পষ্ট যে, এখন আর মানুষকে বলে প্রমাণ করতে হবে না। আমরা এই ঘটনাবলীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন আর পরিচালনা করতে না পারে তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানাচ্ছি।

রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, হেফাজত-জামাতের এই তাণ্ডবে যে সকল হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সর্বশান্ত হয়েছে তাদের পাশে দাড়ানো প্রয়োজন। এবং সেই লক্ষ্যে তাদেরকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব বিরোধী দল নেত্রীকেই নিতে হবে। আমি একই সঙ্গে সরকারকেও এই দুঃস্থ মানুষগুলোকে সহযোগিতার জন্য ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি আশা করি দেশের মানুষও এইসব মানুষের পাশে দাড়াবে। সবাইকে ধন্যবাদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের পলিটব্যুরোর সদস্য কামরুল আহসান ও হর্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম। 


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc