এ সরকার কোনো উন্নয়ন করেনি লুটপাট ও দুর্নীতি করেছে : খালেদা জিয়া

    0
    3

    আমারসিলেটটোয়েন্টিফোর,০৮ সেপ্টেম্বর  : আবারও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, কোন দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এদেশে এরক কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আজ রবিবার বিকেলে নরসিংদীর পৌর শিশুপার্কের বালুর মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

    এর আগে বৃষ্টি উপেক্ষা করে আজ সকাল থেকেই জনসভাস্থলে নেতকর্মীরা উপস্থিত হয়। সমাবেশে অংশ নিতে জেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা থেকে হাজার, হাজার মানুষ, দলীয় নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন। দুপুরের আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সমাবেশের মাঠ।এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানে পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও খালেদা জিয়ার বিশেষ নিরাপত্তা সদস্যরা। তাদের পাশাপাশি দলীয় প্রায় এক হাজার কর্মী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

    এর আগে  আজ রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন থেকে গাড়িবহর নিয়ে নরসিংদীর পথে রওনা দেন। গাড়িবহর মহাখালী, পল্টন, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কাঁচপুর ব্রিজ হয়ে নরসিংদীর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। গুলশান থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত দুপাশে দলীয় নেতাকর্মীরা মানবপ্রাচীর তৈরি করে গাড়িবহরকে স্বাগত জানান। প্রসঙ্গত প্রায় ২১ বছর পর ঢাকার পার্শ্ববর্তী এ জেলায় বিএনপি প্রধানের আগমনকে ঘিরে গোটা এলাকাজুড়ে বিরাজ ছিল সাজ সাজ রব।

    প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকার ক্ষমতায় বহাল থেকে নির্বাচন করতে চায়। এ ধরনের নির্বাচন কোনোদিন নিরপেক্ষ হতে পারে না। এ ধরনের নির্বাচন আমরা হতে দেবো না। আমরা কোনো অন্যায় দাবি করছি না। আমাদের ন্যায্য দাবি করছি। তা মানতে হবে। তিনি উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান ১৮ দলের এ দাবি যৌক্তিক কিনা। এ সময় সবাই হাত হাত নেড়ে তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এ সময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এদেশে আর কোনোদিন বাকশাল কায়েম করতে দেয়া হবে না।

    আদালতের কথা না শুনে তারা সংবিধান সংশোধন করেছে অভিযোগ করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান পার্লামেন্ট বাতিল করতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেয়া হবে না। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের নব্বই ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। আজীবন ক্ষমতায় থাকতেই আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু সংবিধানের দোহাই দেয়। দেশের সংবিধানে তত্ত্ববধায়কের বিধান বহাল ছিলো। আওয়ামী লীগই তা বাতিল করেছে।
    খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট তাকে বলেছিল ‘রং হেডেড’। এখন তা প্রমাণিত হয়ে গেছে। কারো মাথা খারাপ হলে চিকিৎসা প্র্রয়োজন। আমরা তার শুভাকাঙ্ক্ষী, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করছি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিলেন। তারা ক্ষমতায় এসে কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করে দিলেন।
    সাবেক প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই আলোচনার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে এখনো নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও মত দেন তিনি। তিনি বলেন, দেশে কোনো উন্নতি করেনি এ সরকার। দেশের সম্পদ এমপি-মন্ত্রীদের পকেটে চলে গেছে। বিরোধী দলীয় নেতা নরসিংদীবাসীকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেন।
    খালেদা জিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকতেই সংবিধান সংশোধন করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান সংশোধন করেছে। সুশীল সমাজ তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে মত দিলেও তারা এ বিষয়ে কারো সাথে কথা বলেনি। আলোচনা করেনি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রীরা মন্ত্রী থাকবেন, প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। তাদের অধীনে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
    ১৮ দলীয় জোট নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন হেলিকপ্টারে করে ঘুরে ঘুরে নৌকায় ভোট চান। তিনি ক্ষমতায় থেকে গত সাড়ে চার বছরে দুর্নীতি আর লুটপাট করেছেন। এই করতে করতে নৌকার তলা ফুটো হয়ে গেছে। এখন নৌকায় পানি উঠে ডুবে যাওয়ার অবস্থা। এই নৌকা দিয়ে আর কাজ হবে না। তিনি বলেন, সরকার কোনো উন্নয়ন করেনি। লুটপাট আর দুর্নীতি করেছে। তাই তারা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে চায়। কারণ ক্ষমতায় থাকলে সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বক্তব্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন খালেদা জিয়া। তবে বেশির ভাগ অংশজুড়েই ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন প্রসঙ্গ। বক্তব্যের শুরুতেই বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান খালেদা জিয়া।
    সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান  সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, সালাহউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নির্বাহী কমিটির সদস্য হারুণ অর রশিদ, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সফু, মহিলা দল সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রমুখ।
    এছাড়া বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মঞ্জুর এলাহী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল  হোসেন মাস্টার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মো. জয়নাল আবেদীন, ফেরদৌস আহমেদ  খোকন। এছাড়াও ১৮ দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীমের ড. রেদওয়ান উল্লাহ শাহীদি, এম শামছুল ইসলাম এমপি, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ইসলামী ঐক্য জোটের সভাপতি আব্দুল লতিফ নেজামী প্রমুখ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here