Friday 22nd of November 2019 10:22:20 AM
Saturday 2nd of November 2019 12:51:50 AM

উদ্ভাবিত “জৈন্তিয়া গোলমরিচ” চাষ সম্ভাবনার হাত ছানি

অর্থনীতি-ব্যবসা ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
উদ্ভাবিত “জৈন্তিয়া গোলমরিচ” চাষ সম্ভাবনার হাত ছানি

রেজওয়ান করিম সাব্বির,জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধিঃ গোলমরিচকে বলা হয় মসলার রাজা। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র ফসল গবেষণা কেন্দ্র হল “সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র”। ১৯৮৬ সালে এই গবেষণা কেন্দ্র হতে প্রথম চারা উৎপাদন করে গোলমরিচের চাষাবাদ শুরু করে। তখন এই মসলার রাজার নাম দেওয়া হয়েছিল “জৈন্তিয়া গোলমরিচ”। এই উদ্ভাবনের স্বীকৃতি মিলে ১৯৯০ সালে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট জৈন্তিয়া গোলমরিচের নাম করন করে “বারি-১ গোল মরিচ হিসাবে”। বিগত ৪ বৎসর হতে সারাদেশে গোলমরিচের চাষবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগনেয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট ও সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র। গবেষকরা গোলমরিচ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন।

সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল প্রতিবেদকে জানান, সিলেট বিভাগের তিনটি জেলার টিলাশ্রেণির কৃষিজমি ছাড়াও দেশের উত্তরাঞ্চলের বগুড়া, রংপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় এই মৌসুমে জৈন্তিয়া গোলমরিচের বা বারি-১ গোলমরিচের চাষাবাদ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে জৈন্তাপুর সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের অনুপ্রেরণায় গোলমরিচের চারা পাহাড়ী ও টিলা রকম ভূমিতে চাষাবাদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া গোলমরিচ চাষাবাদের উদ্যোগকে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র মুলত সিলেট অঞ্চলের লেবু জাতীয় ফসলের কৌলি সম্পাদ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, উদ্ভাবিত জাতের উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করে। ১৯৫১ সালে সিলেটের পাহাড়ী এলাকা জৈন্তাপুর উপজেলার কামলাবাড়ী এলাকায় গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তিতে ১৯৬১ সালে ৪৮ হেক্টর জায়গা জুড়ে কেন্দ্রটি স্থায়ী রূপপায়।

১৯৬১ সাল হতে ১৯৬৫ সালে ২৬.৩২ হেক্টর জায়গা অধিগ্রহন করার পর হতে জৈন্তিয়া গোলমরিচের চাষাবাদের একটি প্রকল্প চালু করে। ২০ বৎসর গবেষণা করে গোলমরিচের একটি জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয় কেন্দ্রটি। ফলে ১৯৮৬ সালে নিজস্ব একটি জাত উপাদনের ঘোষনাদেয় কেন্দ্রটি। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা জানান, নিজস্বতা রক্ষায় তখন এই গোলমরিরটির নাম দেওয়া হয় “জৈন্তিয়া গোলমরিচ”।

এই নামে গবেষণা কেন্দ্রের বাহিরে কৃষি উদ্যোগে আরও চারটি বৎসর চাষাবাদের পর ১৯৯০ সালে বারি-১ গোলমরিচ নাম দেয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট। সিলেট অঞ্চলের মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জের পাহাড় ও টিলাএলাকা গুলোতে গোলমরিচের চাষাবাদ ও উৎপাদন দেখে চলতি বৎসর থেকে বাংলাদেশের পাহাড়ী এলাকা এবং তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত অঞ্চলে চাষাবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিভাগের কৃষি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শাহ লুৎফুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, গোলমরিচকে মসলার রাজা বলা হয়। সিলেটের ১৩টি উপজেলায় গোলমরিচের চাষাবাদ হচ্ছে। ভেষজ গুনাগুনে অনন্য এই মরিচ কফ, ঠান্ডা জনিত সমস্যা, ক্যানসার ও গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যার প্রতিরোধ করে। বারি-১ গোলমরিচের ফলন বৃদ্ধি করলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাহিরেও রপ্তানির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc