ইতালির নৌকাডুবিতে নিহত ৩০০ছাড়িয়ে যেতে পারে

    0
    8

    আমারসিলেট 24ডটকম,০৪অক্টোবর:ইতালিতে আফ্রিকার অভিবাসী বহনকারী নৌকাডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাঁচশোরও বেশি আফ্রিকান অভিবাসী নিয়ে জাহাজটি লাম্পেদুসা নামের একটি ছোট দ্বিপের কাছে আগুন লেগে ডুবে যায়। সিসিলির উপকূলে  উদ্ধার রক্ষীরা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৩০টি লাশ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকারীদের অভিযান চলছে। আরো প্রায় ২০০ জনের কোনো খোঁজ পাননি উদ্ধারকর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার নৌকাডুবির পর সাগর থেকে শতাধিক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে একদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। ইতালির সব স্কুলে পালন করা হয়েছে এক মিনিট নীরবতা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এ সব তথ্য  জানানো হয়েছে।
    ইতালীয় কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা ফ্লোরিয়ানা সেগ্রিতোর সুত্র থেকে জানিয়েছেন, তাদের উদ্ধার তৎপরতা এখনো চলছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র লরেন্স জোলস জানান, লিবিয়ার মিসরাতা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ওই নৌকার যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিক। ৬৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে ওই নৌকায় চড়ে তারা ইউরোপে আসছিলেন অভিবাসনের আশায়।
    জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেন, জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছিল লিবিয়া থেকে। এর যাত্রীরা মূলত আফ্রিকার ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়ার অধিবাসী। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার একজন মুখপাত্র সিমোনা মসকারেলি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, জাহাজে আগুন লাগার পর আরোহীরা সবাই হুড়োহুড়ি করে জাহাজের একপাশে চলে গেলে জাহাজটি ডুবে যায়।
    দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আরোহীদের বরাত দিয়ে লেমপেদুসার মেয়র গিউসি নিকোলিনি  জানান, বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে উপকূল থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে থাকতে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ওই পরিস্থিতিতে কোস্ট গার্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য কেউ একজন নৌকার ওপর আগুন ধরায়, যা পরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আতঙ্কিত যাত্রীরা সবাই একদিনে সরে গেলে উল্টে যায় নৌকা। ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানজেলিনো আলফানো জানিয়েছেন, নৌকার ৩৫ বছর বয়সী সোমালীয় সারেংকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত এপ্রিলেই তাকে ইতালি থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
    খবরে বলা হয়, তিউনিসিয়া ও সিসিলি দ্বীপের মাঝখানে ভূমধ্যসাগরে লেমপেদুসাই ইউরোপে প্রবেশের পথে প্রথম দ্বীপ। প্রতিবছর হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী এ পথ দিয়ে ইউরোপে ঢোকে। গত সপ্তাহেও ইতালির সিসিলি উপকূলে যাওয়ার চেষ্টার সময় ১৩ অভিবাসী ডুবে মারা যান।
    জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার সময় লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছে ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বলছে, শুধুমাত্র এ বছরই প্রায় ৩০ হাজার আশ্রয়প্রার্থী ইতালির উপকূল দিয়ে ইউরোপে ঢুকেছে যাদের বেশিরভাগই এসেছে লিবিয়া হয়ে। সংস্থাটি বলছে আফ্রিকার দারিদ্র্য-পীড়িত দেশগুলোর হাজার হাজার মানুষ প্রতিবছর এ ধরনের বিপজ্জনক যাত্রা করে ইতালিতে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে থাকে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here