আল্লাহর ঘরের মেহমানদের হয়রানিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাঃপ্রধানমন্ত্রী

0
71

আমারসিলেট ডেস্কঃ হজযাত্রীদের সঙ্গে কোনো এজেন্সি প্রতারণা বা হয়রানি করলে সে এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আগামী দিনগুলোতেও আল্লাহর ঘরের মেহমানদের যারা হয়রানি করবে তাদেরকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
জাতীয় পর্যায়ে হজ্জ ও ওমরা ব্যবস্থা বিষয়ক সম্মেলন-২০২২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনটি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে হজ্জযাত্রীদের নিয়ে কিছু স্বার্থন্বেষী মহল, দালাল-প্রতারকদের প্রতারণা, হজ্জযাত্রী পরিবহনে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম সাধারণ ঘটনা ছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ২০০৯ সালে আমাদের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই হজ্জ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে এটিকে বিশ্বমানে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করি। হজ্জযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন, নিবন্ধন, ই-হেলথ প্রোফাইল তৈরি, ই-টিকিট, হজযাত্রী পরিবহন, মক্কা-মদিনায় আবাসন ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা দেওয়াসহ সবক্ষেত্রে ই-হজ্জ ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, হজ্জ ইসলামের ৫ম স্তম্ভ ও আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলমানের জন্য ফরজ ইবাদত। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণভাবে ১০ লাখ হজযাত্রী নিয়ে পবিত্র হজ্জ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজ্জ পালন করেন। ২০২২ সালে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হজ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বর্তমান হজ্জ ব্যবস্থাপনার অধিকাংশ বিষয়ে আইটি নির্ভর হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে হজ্জ ব্যবস্থাপনার অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এসব বিষয়ে হজ্জযাত্রীসহ বিভিন্ন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী পাঠানো এজেন্সিকে অবহিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা তার সাড়ে তিন বছরের শাসনকালে হজ্জ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে বহু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কম খরচে হজ্জ পালনের জন্য তিনি হিজবুল বাহার জাহাজ ক্রয় করেন এবং বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র পথে হজ্জযাত্রী পাঠান। জাতির পিতা মুসলিম বিশ্বসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। তার কূটনৈতিক দূরদর্শীতায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য জাতির পিতা ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বাের্ড প্রতিষ্ঠা করেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন; তাবলীগ জামায়াতের জন্য কাকরাইল মসজিদে জমি দান করেন; টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমার জন্য জায়গা বরাদ্দ দেন। বেতার ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান শুরু ও সমাপ্তিতে কুরআন তিলাওয়াতের প্রচলন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন অনলাইন সুবিধা ব্যবহার করে প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়া সারা বছর চলমান আছে। এর মাধ্যমে জনগণের দোড়গোড়ায় দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা দেওয়া হচ্ছে-যা আমাদের সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে হজ্জযাত্রীরা সহজেই তাদের যাবতীয় তথ্য ও সেবা নিতে পারছেন। দেশ-বিদেশ থেকে হজ্জযাত্রীদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারছেন। হজ্জযাত্রীরা তাদের ভিসা, পাসপোর্ট, আবাসন, মেডিকেল সুবিধা, সৌদি আরব গমন, প্রত্যাগমন ইত্যাদি বিষয়ে সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। হজ্জযাত্রীদের জন্য স্বল্প সময়ে সেবা দেওয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুরক্ষা অ্যাপসের সঙ্গে ই-হজ সিস্টেমের আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে হজ্জযাত্রীদের কোভিড-১৯ টিকা সংক্রান্ত তথ্যাদি সহজেই জানা সম্ভব হচ্ছে এবং হজ্জযাত্রীদের ই-হেলথ প্রোফাইল প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের হজ্জে সৌদি আরবের ‘রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভ’ এর আওতায় প্রায় ৬০ হাজার জন হজ্জযাত্রীর ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে ,যা মোট হজ্জ যাত্রীর ৪৬ শতাংশ। ২০২২ সালে ৯২ শতাংশ হজ্জযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন হয়। এর ফলে হজ্জযাত্রীদের হজ্জযাত্রাজনিত কষ্ট বহুলাংশে লাঘব হয়। আগামী বছর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে শতভাগ হজ্জযাত্রীর মক্কা রোড ইনিশিয়েটিভের এর আওতায় সৌদি পর্বের ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১৩ নভেম্বর সৌদি সরকারের সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে আমাদের সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ৬৪৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প পুনরায় চালু করি। বর্তমানে এ প্রকল্পের বরাদ্দ ২ হাজার ২৭২ কোটি ৪ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ব্যয় একটি করে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।

তিনি বলেন, অন্যান্য সব ধর্মের জন্যও আমাদের সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দেশে সব ধর্মের মানুষ যার যার ধর্ম চর্চা করছে। আজ বিশ্বে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু সম্প্রতি ধর্মকে অপব্যবহার করে এক শ্রেণির ইসলামের লেবাসধারী ব্যক্তি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। তারা ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনও তাদের প্রশ্রয় দেবে না। আসুন আমরা সবাই ইসলামের মর্মবাণীকে অন্তরে ধারণ করে সমাজ থেকে অন্ধকার, অশিক্ষা, বিভেদ, হানাহানি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করি; ইসলামের অপব্যাখ্যাকারী শক্তিকে প্রতিরোধ করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here