আরও ৩ কোটি করোনা টিকার ডোজ কেনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0
15

আমার সিলেট ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকার আরও ৩ কোটি ডোজ কেনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভার্চ্যুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত করোনা ভাইরাসের টিকা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে প্রথম ধাপে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড নামের তিন কোটি ডোজ টিকা কিনেছে বাংলাদেশ। প্রথম ধাপে তিন কোটি টিকার বেশ কয়েকটি চালান ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি আরও ৩ কোটি ডোজ কেনার জন্য। আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে করে আমাদের যেটা আছে প্রথম ডোজ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় ডোজ আমরা দেওয়া শুরু করব। আবার যেন হাতে এসে যায়, একটা মানুষও এই টিকা থেকে বাদ না যায়, তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, কোন দেশ যদি উৎপাদন করতে না পারে প্রয়োজনে আমাদের দেশ উৎপাদন করতে পারবে। আমি আমাদের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিকে বলেছি—কারা কারা এটা করতে পারবে তার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং এখানে ‘সিড’ যাতে আনা যায় তার ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটাও আমরা এখন দেখছি। নিজে কবে টিকা নেবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি টিকা অবশ্যই নেব। তবে আমার দেশের মানুষের কত শতাংশ মানুষকে দিতে পারলাম সেটা আগে আমি দেখতে চাই। আমার একটা টিকার জন্য যদি আরেকটা মানুষের জীবন বাঁচে সেটাই তো সব থেকে বড় কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি তো আছি, ৭৫ বছর বয়স—আজ আছি, কাল নেই। হায়াত-মউত কে বলতে পারে? যেকোনো সময় যে কেউ আমরা মারা যেতে পারি। সরকারপ্রধান বলেন, আজকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, আমাদের স্কুল-কলেজ, প্রাইমারি থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষক এবং কর্মচারী যারা আছেন তাদের টিকা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা হোস্টেলে থাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মতো যে বয়স পর্যন্ত দেওয়া যাবে না তার ওপরের বয়স থেকে সবাইকে টিকা দিতে হবে। এটা আমরা দেব। কারণ আমরা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুব দ্রুত খুলতে চাই, পড়াশোনার পরিবেশটা ফিরিয়ে আনতে চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সবসময় এটাই চিন্তা করেছি যারা মানুষের জন্য কাজ করে, সবসময় মানুষের পাশে থাকতে হয়—তাদের টিকা দেওয়াটা আগে। আমরা কিন্তু গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত প্রচার চালাচ্ছি যেন সবাই টিকা নিতে আসে। করোনা সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করার জন্য যা যা করা দরকার, মহামারি শুরুর পর থেকে আমরা কিন্তু পদক্ষেপ নিয়েছি।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রান্তে সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।