Wednesday 23rd of September 2020 12:27:22 PM
Thursday 7th of January 2016 01:32:44 PM

“আমার মাটি আমার মা, কেড়ে নিতে দেব না”

নাগরিক সাংবাদিকতা ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
“আমার মাটি আমার মা, কেড়ে নিতে দেব না”

আমারসিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম,০৭জানুয়ারী,পাভেল পার্থঃ বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি ও নদীপ্রধান দেশ। কিন্তু কৃষি কি নদীর সুরক্ষায় রাষ্ট্র বরাবর নিশ্চুপ। তাই নিদারুণভাবে নিহত হয় নদী, আর নিখোঁজ হয় কৃষিজমি। বাংলাদেশে মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার একর। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ২ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার একর। আবার চাষের আওতায় নেই এমন জমির পরিমাণ ২৫ লাখ ৮০ হাজার একর। কিন্তু নিদারুণভাবে দেশে কৃষিজমি কমছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরো ও কৃষিবিভাগের তথ্যমতে দেশে প্রতিবছর এক শতাংশ হারে কৃষি জমি কমছে। ১৯৮৬ সনে দেশে আবাদি জমি ছিল ২ কোটি ১৫ লাখ একর। ২০০০ সালে কমে গিয়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৭৬ লাখ একরে। ২০০৩ সনে কমে দাঁড়ায় ১ কোটি ৭৫ হাজার একরে। গড়ে প্রতিবছর আবাদি জমি কমছে ৪০ হাজার একর। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের ‘বাংলাদেশের কৃষিজমি বিলুপ্তির প্রবণতা’ প্রতিবেদনের ভাষ্য, ২০০০ পরবর্তী ১২ বছরে দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার একর কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। কৃষিজমি সুরক্ষায় রাষ্ট্র শেষতক ‘প্রস্তাবিত কৃষিজমি সুরক্ষা আইন ২০১৫’ এর খসড়া তৈরি করেছে।

উক্ত খসড়া আইন এবং ‘জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি ২০১০’ অনুযায়ী কৃষিজমিতে কোনোভাবেই শিল্পকারখানা স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু নিদারুণভাবে আইন লংঘন করেই কখনো শিল্পায়ন, কখনোবা উন্নয়ন বাহাদুরির নামে লাগাতার খুন হচ্ছে কৃষিজমি। রাষ্ট্র না দাঁড়ালেও, ঐতিহাসিকভাবে দেশের কৃষিজীবী নিম্নবর্গ বারবার কৃষিজমি আগলে দাঁড়িয়েছে নানা উন্নয়ন মারদাঙ্গার বিরুদ্ধে। জানবাজি রেখে রক্ষা করেছে জমিন। আবারো বাংলাদেশের চাবাগানগুলো তুমুল গর্জে ওঠেছে কৃষিজমি সুরক্ষায়। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নের চান্দপুর চাবাগানের ৫১১.৮৬ একর কৃষিজমিতে সরকার ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অ ল’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। অথচ এই জমিনে চান্দপুর, বেগমখান, রামগঙ্গা ও জোয়ালভাঙ্গা চাবাগানের প্রায় ১২০০ পরিবার দীর্ঘ ১৫০ বছর কৃষিকাজ করে টিকে আছেন। ব্রিটিশ বহুজাতিক কোম্পানি ‘ক্যামেলিয়া পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি’ বাংলাদেশে ‘ডানকান ব্রাদার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেড’ নামে বাণিজ্য করে। এই কোম্পানি বাংলাদেশে চা, রাবার ও বোতলজাত পানির ব্যবসা করে। ডানকানের অধীনস্থ ১৬টি চাবাগানের একটি হলো এই চাঁন্দপুর।

২.চাবাগানে শ্রমিক বা বাগানি কারোরই ভূমি মালিকানা নাই। সরকার থেকে জায়গা ইজারা নিয়ে কোম্পানি বা ব্যাক্তি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান এসব বাগান গড়ে তুলেছে। ডানকান ১৮৯০ সনে ৩,৯৫১ একর জায়গা ইজারা নিয়ে ‘চান্দপুর চাবাগানে’ চা উৎপাদন শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৩ সনে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে আরো ৪০ বছরের জন্য চাবাগানের ভূমি ইজারা নবায়ন করে ডানকান। চা বাগানে চাগাছের বাগানের জন্যই প্রায় ভূমিটুকু ব্যবহৃত হয়, এছাড়া আছে আবাসন, রাস্তাঘাট, জলাধার, কারখানা ইত্যাদি। এসবের বাইরে চাবাগান এলাকার আবাদি কৃষিজমিগুলো চাবাগানের অভিধানে ‘ক্ষেতল্যান্ড’ নামে পরিচিত। চান্দপুর চাবাগানের ক্ষেতল্যান্ড জমি ৯১৫ একর। ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অ লের’ জন্য চিহ্নিত ৫১১ একর কৃষিজমিও এরই অন্তর্গত, তবে বলা হচ্ছে এই অংশটুকু ডানকানের ইজারাভূক্ত নয়। চাবাগানের কোনো স্থায়ী শ্রমিক থাকার জন্য একটি ঘর, দৈনিক মজুরি, রেশন ও ভাতা ছাড়াও চাবাগানের ভেতর বা আশেপাশের অব্যবহৃত জমিনে কৃষিআবাদ করার সুযোগ পান। দেশে মাথাপিছু আবাদি জমির পরিমাণ ০.২৮ একর। প্রতি কৃষকের আবাদি জমির পরিমাণ ১.৫০ একর।

কিন্তু দেশের চাশ্রমিকসহ চাবাগানের মানুষের কৃষিজমির হিসাব এমনতর নয়। একজন স্থায়ী শ্রমিক চাবাগানে মাত্র এক কেয়ার (১ একর = ২.৪৭ কেয়ার) কৃষিজমিতে চাষাবাদের এই সুযোগ পান। আমন ও বোরো মওসুমে ধান আবাদ ছাড়াও কিছু মওসুমি শাকসব্জি ফলে এসব জমিনে। এক কেয়ার জমির জন্য বরাদ্দকৃত রেশন থেকে চাবাগান কর্তৃপক্ষে বছরে ৮০ কেজি চাল বা গম কর্তন করে। এক কেয়ারে বছরে দুই মওসুমে প্রায় ৩০ মণ ধান ফলে। একটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের দৈনিক প্রায় ২ কেজি চাল লাগে। এ হিসাবে দেখা গেছে, ৫১১ একর কৃষিজমি থেকে বছরে প্রায় ১৩০০ পরিবারের ভাতের জোগান হয়। ‘চান্দপুর-বেগমখান চাবাগান ভূমি রক্ষা কমিটি’র’ হিসাব মতে, বছরে এই জমিন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৩ কোটি টাকা যোগ করে। কিন্তু চাবাগানের খুব কম মানুষই স্থায়ী শ্রমিক। বাকীরা অস্থায়ী, বেকার, দিনমজুর ও কৃষিমজুর। চলতি সময়ে একটা বড় অংশ বাগানের বাইরে থেকে কাজ করে। স্থায়ী শ্রমিকের জন্য বরাদ্দকৃত এই জমিনটুকুতেই চাবাগানের সকলে মিলেমিশে কৃষিআবাদ করে জান নির্বাহ করেন।

উল্লিখিত জলাজমিটি ১৫০ ধরে চাবাগানের মানুষেরা রক্তঘামে কৃষিজমির রূপ দিয়েছেন। অন্যায়ভাবে এই জমিটিকে ‘পতিত খাসজমি’ হিসেবে দেখিয়ে ভূমিমন্ত্রণালয় ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অ লের’ জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সনের ২২ অক্টোবর বেজা’র পরিচালনা পর্ষদের তৃতীয় সভায় কৃষি জমি বাঁচিয়ে শিল্পায়নের ঘোষণা দেন। শিল্পায়নের সপক্ষে কৃষিজমি সুরক্ষায় তাই বছরব্যাপি লড়ছে চান্দপুর চাবাগান। বাংলাদেশ চাশ্রমিক ইউনিয়নসহ নানা সংগঠন ও ব্যক্তি এই আন্দোলনে সংহতি জানাচ্ছে।

৩.চান্দপুর চাবাগানের শ্রমিকসহ কেউই জানতে পারেননি তাদের কৃষিজমিটি অর্থনৈতিক অ ল হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব নৃপেন পাল জানান, …ডানকান ব্রাদার্স ও চান্দপুর চাবাগান কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তারা বারবার বলছেন তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না, সরকার তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে এই জায়গাটি বরাদ্দ করছে। ব্রিটিশ আমল থেকে চার বংশ ধরে এ কৃষিজমিটি আমরা তৈরি করেছি, এই জমি গেলে আমাদের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। ভূমিরক্সা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক স্বপন সাঁওতাল বাগান কর্তৃপক্ষের ‘নিশ্চুপতাকে’ ভণিতা হিসেবে দেখেন। তিনি জানান, …এটি ডানকান কোম্পানির গা বাঁচানো কথা। মালিকপক্ষ ছাড়া সরকার এটি করতেই পারে না। হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মালিকপক্ষসহ আমাদের শ্রমিকদের একটি সভা হয়েছিল চান্দপুর চাবাগানের লিজ বর্হিভূত জমি বিষয়ে।

সবাই জানে, এখন না জানার ভাণ করে সবাই দায় এড়াতে চাইছে। এই হাজার হাজার মানুষের দাবিকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।’ ২০১৪ সনের ৫ নভেম্বর দৈনিক পত্রিকা মারফত চাশ্রমিকদের নজরে আসে খবরটি। ২০১৪ সনের ১০ নভেম্বর চান্দপুর চাবাগান শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কৃষিজমি কেড়ে এই উন্নয়ন কর্মকান্ড বন্ধের আবেদন জানানো হয় হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর, এর অনুলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও দেয়া হয়। তারপর নানাভাবে বছর জুড়ে দানা বাঁধে জমি রক্ষা আন্দোলন। সভা, মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি’র মাধ্যমে। ২০১৫ সনের ১২ ডিসেম্বর চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাশ্রমিক ও বাগান কর্তৃপক্ষকে ডেকে অর্থনৈতিক অ ল তৈরির বিষয়টি জানান এবং যেকোনো মূল্যে এটি করবার ‘ঘোষণা’ দেন।

মূলত: পরের দিন থেকেই চান্দপুর চাবাগানের জমি রক্ষা আন্দোলনটি জানবাজি রেখে দাঁড়িয়ে যায়। তৈরি হয় ১১১ সদস্য বিশিষ্ট ‘চান্দপুর-বেগমখান চাবাগান ভূমি রক্ষা কমিটি’। ২০১৬ সনের ১ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি বহরের খবর পেয়ে আবারো উত্তাল হয়ে ওঠে চান্দপুর। তীর-ধনুক, লাঠি, মাদল, ঢোল নিয়ে জমি বাঁচাতে চান্দপুরে অবস্থান নেয় হাজারে হাজার নারী ও পুরুষ।

৪.চলমান চান্দপুর-বেগমখান চাবাগানের ভূমি রক্ষা আন্দোলনকে আমরা কীভাবে পাঠ করবো? চাবাগানের এই জনপ্রতিরোধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৯২১ সনে চাবাগান ‘মুলুকে ফিরে যাওয়ার’ আন্দোলন করেছিল। নানকার বিদ্রোহ থেকে ভানুবিল আন্দোলন, আমরাইলছড়া চাবাগানের হাতবন্ধ আন্দোলন থেকে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন। সবই যেন একই ব্যাকরণের সূত্রে গাঁথা। নীরা বাউরি থেকে বসন্ত বুনারজি, অবিনাশ মুড়া থেকে নিতাই তাঁতী। চাশ্রমিকের টববগ রক্তে আজো দ্রোহী মুক্তিযুদ্ধের আখ্যান। কিন্তু তথাকথিত মূলধারার ইতিহাসে চাশ্রমিকসহ চাবাগানের মানুষদের জায়গা কোথায়? যে শ্রমিকেরা নিজের সর্বস্ব দিয়ে নিজে ক্লান্ত হয়ে, অন্যের ক্লান্তি দূর করতে দিনের পর দিন ভরিয়ে তুলছে পেয়ালা বারবার সেই চাবাগানের উপরই কেন হামলে পড়ে সকল বৈষম্য আর উন্নয়নের বাহাদুরি।

আজ চান্দপুর চাবাগানের এই ভূমি রক্ষা আন্দোলনকে কেবলমাত্র ৫১১ একর ভূমিতর্কের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। কারণ আজ এটি বাতিল হবে, পরশু আবারো অন্য কোনো বাগানে অন্য কোনো ভাবে এটি উসকে ওঠবে। দলন আর পীড়নের গণিত থামবে না। আবার চা বাগান সম্প্রসারণের নামে বারবার কোম্পানিগুলি চাবাগান অ লে ইজারা নিয়ে বসরত আদিবাসী খাসিদের বিরুদ্ধে চাশ্রমিকদের দাঁড় করায়। এ নিয়ে তৈরি আছে আরেক দরবার। চলতি আলাপে সেটি টানা হলো না। চাবাগানের স্থায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে চাবাগানি সকল পরিবারের জন্য ভূমির স্থায়ী বন্দোবস্তীর জন্য দরকার রাষ্ট্রের একটুখানি দরদি বুক আর সাহস। আইন ও নীতি এ বিষয়ে পর্যাপ্ত নেই। চাশ্রমিকসহ দেশে অনেকেই এ বিষয়ে পন্ডিত, রাষ্ট্র সবাইকে নিয়ে বসতে পারে।

অনেকে চাবাগানের জন্য পৃথক ও স্বতন্ত্র ভূমি কমিশনেরও দাবি তুলেছেন। কমিশন কি নীতি বা নথি বড় কথা নয়, আয় রোজগার করে খেয়ে পড়ে নিশ্চিন্তে বাঁচবার উপায়টুকু তো দরকার। ১৫০ বছর ধরে বয়ে নিয়ে চলা কৃষিজমিনকে কেউ যদি ‘পতিত’ বলে জোর করে কেড়ে নিতে চায় তবে আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কী দরকার? দশ হাজার মানুষের স্বপ্নকে পিষে যে বিশেষ অর্থনৈতিক অ ল বানানোর মারদাঙ্গা, এই অর্থনীতি শেষতক কার জন্য? কার চোখে, কার সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র এসব দিনবদলের সাফাই গাইছে? চান্দপুর চাবাগানের চলমান আন্দোলন আবারো স্পষ্ট করছে মানুষসহ প্রাণ ও প্রকৃতির বহমানতাকে দাবিয়ে রেখে কোনোভাবেই কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটিতে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি হয়েছিল লাখো আদিবাসীকে নিখোঁজ করে এবং তাদের গ্রামজনপদ ডুবিয়ে দিয়ে। তাতে কী লাভ হয়েছে? সেই প্রকল্প এখন তো মুমূর্ষু। মুন্সীগঞ্জের লাখো মানুষের কৃষিজমিনে সরকার বিমানবন্দর করতে চেয়েছিল। তুমুল আন্দোলনের মুখে সরকার সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে।

৫.দেশে অনেকেই জানে না একজন স্থায়ী চা শ্রমিক দৈনিক কত মজুরি পায়? ২০১৫ সনের পয়লা জানুয়ারি থেকে দৈনিক মজুরি ৮৫ টাকা হলেও বাগানগুলোতে দেয়া হয় ৬৯ টাকা। দৈনিক মজুরি আর সপ্তাহের রেশন দিয়ে কোনোভাবেই দিন চলে না। বাংলাদেশে বাস করা কারো কাছেই এটি নিশ্চয়ই না বোঝার মতো কিছু নয়। তারপরও চাবাগানিরা টিকে থাকে আশেপাশের এইসব ক্ষেতল্যান্ড জমিগুলোতে চাষাবাদ আর দিনমজুরি করে।

অথচ দেশের জাতীয় বাজেট তৈরি হয় এই চাবাগানের মানুষের দুবির্নীত ঘামের ময়ানেই। আর আজ সেই চাবাগানি আদিবাসী নিম্নবর্গের একটুখানি কৃষিজমিই হয়ে ওঠেছে রাষ্ট্রের উন্নয়ন-অনিবার্যতা। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে দেশে শতাধিক বিশেষ অর্থনৈতিক অ লের ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে রাষ্ট্রের কোনো মৌলিক রাজনৈতিক দর্শন ও উন্নয়ননীতি নাই। প্রাণ ও প্রকৃতির গণিতকে আগলে নিয়ে, নিম্নবর্গের যাপিতজীবনের রক্তটীকা থেকেই বুনতে হবে অর্থনীতির ময়দান।

নিম্নবর্গের সকল আন্দোলনের মতোই চলমান চান্দপুর চাবাগানের ভূমি রক্ষা আন্দোলনেও ‘কেউ কেউ’ নানা কিসিমের ‘ষড়যন্ত্র’ আবিষ্কার করছেন। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে, সকারের উন্নয়ন কর্মসূচি ভন্ডল করতে নাকি এই আন্দোলন কেউ উসকে দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন এটি কোম্পানির ষড়যন্ত্র। রাষ্ট্রপক্ষের কেউ কেউ আবার চা কোম্পানি ও মালিকপক্ষকে দুষছেন, কোম্পানিরা নাকি চাশ্রমিকদের দু:সহ যন্ত্রণার ভেতর রেখেছেন তারা স্বীকার করছেন। চান্দপুর চাবাগানের ছড়াগুলোকে লন্ডভন্ড করে বালুর ব্যবসা করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কেউ বলছেন এরকম অনেক কিছুরই যুক্ততা থাকতে পারে এখানে। আসলে এইসব ‘ষড়যন্ত্র আবিষ্কারকারীরা’ আসলে বাংলাদেশের ইতিহাস বিমুখ।

নিম্নবর্গের লড়াকু ঐতিহাসিকতা সম্পর্কে হয় তারা জানেন না বা জানার চেষ্টাও করেন না। কারণ তারা মূলত: নয়াউদারবাদী দুনিয়ার করপোরেট এজেন্সির স্বার্থকে সামলান। চান্দপুর চাবাগানের চলমান আন্দোলনে কোনোধরণের ষড়যন্ত্র নেই।

একটিই মাত্র অন্যায় ষড়যন্ত্র এখানে হয়েছে আর তা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ, তারা ১৫০ বছরের কৃষিজমিকে বলেছে ‘পতিত খাস ইজারা বর্হিভূত অব্যবহৃত জমি’। আর কোনো পক্ষ বা মহলের চক্রান্ত বা উসকানিতে হাজার হাজার মানুষ জানবাজি রেখে দাঁড়ায় না। তেভাগা, টংক, নানকা, হুল, উলগুলান থেকে মুক্তিযুদ্ধ এ স্বাক্ষ্য দেয় না। এটি নিম্নবর্গের মর্যাদা ও মানবিকতার প্রশ্ন।

পরিচয় ও পরিশ্রম ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর হাজার বছরের এক সনাতনী কায়দামাত্র। আন্দোলন থেকে ডাক ওঠেছে, আমার মাটি আমার মা, কেড়ে নিতে দিব না। রাষ্ট্রকে এই ডাক বুকের দরদ দিয়ে বুঝতে হবে। ৫১১ একর কৃষিজমি সুরক্ষার ভেতর দিয়ে রাষ্ট্র এই সাহসটি করুক।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc