Sunday 6th of December 2020 03:22:16 AM
Friday 13th of December 2013 10:37:37 AM

আবদুল কাদের মোল্লার পরিচয়ঃযেঅপরাধে তার ফাঁসি হল

আইন-আদালত, খেলাধুলা ডেস্ক
আমার সিলেট ২৪.কম
আবদুল কাদের মোল্লার পরিচয়ঃযেঅপরাধে তার ফাঁসি হল

আমারসিলেট24ডটকম,১৩ডিসেম্বরঃ  ১৯৭১’ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি  জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গত রাত ১০টা ১ মিনিটে এ ফাঁসি কার্যকর করার মধ্যদিয়ে দেশের ইতিহাসে এক নতুন ঘটনার রচিত হলো। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর এটিই হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রথম রায় কার্যকর করার ঘটনা। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো একাত্তরে মিরপুরের কসাই হিসেবে পরিচিত দেশের এ শীর্ষ  যুদ্ধাপরাধীর।
ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামের মরহুম সানাউল্লা মোল্লার ছেলে আব্দুল কাদের মোল্লা ১৯৪৮ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকায় ৪৯৩ বড় মগবাজারের গ্রিন ভ্যালি অ্যাপার্টমেন্টের ৮-এ ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। তিনি ১৯৬১ সালে সদরপুর উপজেলার আমিরাবাদ ফজলুল হক ইনস্টিটিউশনে ৮ম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে বিএসসি প্রথম বর্ষে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়ন ছেড়ে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘে নাম লেখান। বিএসসি ২য় বর্ষের শেষের দিকে তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘের কলেজ শাখার সভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
১৯৬৮ সালে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন কাদের মোল্লা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে তিনি শহীদুল্লাহ হলে থাকতেন এবং ১৯৭০ সালের অক্টোবরে তিনি শহিদুল্লাহ হল ছাত্রসংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে জাতীয় পর্যায়ে ইসলামী ছাত্রসংঘের সঙ্গে জড়িত হন কাদের মোল্লা।মামলার তথ্য মতে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রসংঘ আলবদর বাহিনীতে রূপান্তরিত হলে তিনি ঢাকার মিরপুরে ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়ে আলবদর বাহিনী গঠন করেন এবং এ বাহিনীর একজন কমান্ডার জায়,আর ও জানা যায়,একাত্তরের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত থেকেই শুরু হয় তার নেতৃত্বে বিহারিদের যোগসাজশে ঢাকার মিরপুরে বাঙালি নিধনযজ্ঞ। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার দখলদার বাহিনী, সহযোগী বাহিনীসহ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের অধিনায়কের কাছে আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টাতেই কাদের মোল্লা পাকিস্তানি সেনা ও বিহারিদের নিয়ে মানবতাবিরোধী নানা অপরাধ সংঘটিত করেন।

 যে পরাধে বিচার হল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ গঠন করা অভিযোগ, ৯৬ পৃষ্ঠার সূচনা বক্তব্য এবং ৩৮৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, ষড়যন্ত্র ও উস্কানির ৬টি অভিযোগ আনা হয়। এগুলোর মধ্যে ৫টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর বাকি ১টি রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি বলে গত ৫ ফেব্রুয়ারির রায়ে বলেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে ৬টি অভিযোগের প্রতিটিই প্রমাণিত হওয়ার কথা বলা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর ওই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয় এবং ৫ ডিসেম্বর ৭৯০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
একাত্তরে কাদের মোল্লার নৃশংস কর্মকাণ্ডের স্থান হিসেবে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে মিরপুর ১ নম্বরসহ শাহ আলী মাজার পর্যন্ত এবং ঘটনার সময় হিসেবে একাত্তর সালের ২৫ মার্চ থেকে ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগ ও রায় অনুসারে, ঢাকার মিরপুর ১০ নং বাসস্ট্যান্ড, মিরপুর জল্লাদখানা, মিরপুরের শিয়ালবাড়ি ও রূপনগর, মিরপুর ৬নং সেকশন, মিরপুর ১২ নম্বর সেকশন, মিরপুরের কল্যাণপুর, ঢাকার মোহাম্মদপুর এবং ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জের শহীদনগরে হাজার হাজার বাঙালি হত্যার প্রধান খলনায়ক ছিলেন আব্দুল কাদের মোল্লা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার আগে থেকেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে বিহারিদের যোগসাজশে কাদের মোল্লার নেতৃত্বে মিরপুরে বাঙালি হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। স্বাধীনতার পর দেশের অন্যতম বৃহৎ গণকবর আবিষ্কৃত হয় মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে।
প্রমাণিত অভিযোগে বলা হয়, আলবদর বাহিনীর নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা তার সহযোগী ও অবাঙালি বিহারিদের নিয়ে মিরপুরের বাঙলা কলেজের ছাত্র পল্লবকে জোর করে ধরে এনে মিরপুর-১২ নম্বর থেকে ১ নম্বর এবং ১নং শাহ আলী মাজার থেকে হাতে দড়ি বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে পুনরায় মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনে ঈদগাহ মাঠে নিয়ে এসে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পল্লবের দেহ দু’দিন ঝুলিয়ে রেখে তার সহযোগী আলবদর বাহিনীর সদস্য ও অবাঙালি বিহারিদের দিয়ে পল্লবের আঙ্গুলগুলো কেটে ফেলেন। ৫ এপ্রিল কাদের মোল্লার নির্দেশে ও উপস্থিতিতে তার প্রধান সহযোগী আলবদর আক্তার গুণ্ডা পল্লবের বুকে পরপর ৫টি গুলি করে হত্যা করেন। এর দু’দিন পর পল্লবের লাশ মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনে কালাপানি ঝিলের পাশে আরও ৭ জনের সঙ্গে মাটি চাপা দেয়া হয়।
জানা যায়, মিরপুর-১১ নম্বর বি ব্লক তালতলা নিবাসী মিরপুর বাংলা কলেজের ছাত্র পল্লব স্থানীয় বাঙালি ও অবাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে উদ্যোগী হন। এসব কারণে স্বাধীনতাবিরোধীদের হত্যা পরিকল্পনায় তার নাম যোগ হয়। এছাড়া কাদের মোল্লার নেতৃত্বে তার সহযোগী বিহারিরা ২৭ মার্চ কবি মেহেরুন্নেছা মেহের ও তার পরিবারের সদস্যদের মিরপুরের বাড়ির ভেতরে ঢুকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করেন। জবাই করার পর কবি মেহেরুন্নেছা কল্লাটা কেটে চুল দিয়ে  ফ্যানের সঙ্গে লটকিয়ে দেন তারা। এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দেখে বাড়ির সিরাজ নামে এক ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।
২ এপ্রিল স্থানীয় আলবদর বাহিনীর নেতা কাদের মোল্লা তার সহযোগী আল বদর বাহিনীর সদস্য ও বিহারীদের নিয়ে ঢাকার কল্যাণপুর, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে নিরীহ নিরাপরাধ বাঙালিদের ঘরবাড়ি লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও স্বাধীনতাকামী অনেক বাঙালিকে হত্যা এবং নারীদের ধর্ষণ করেন। ওই এলাকাগুলোতে সেদিন এক বীভৎস-করুণ মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, একাত্তরের ২৪ এপ্রিল তার সহযোগী আলবদর বাহিনীর প্রায় ৫০ সদস্যকে নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তায় আলুব্দী (আলোকদী) গ্রাম ঘিরে নির্বিচারে গুলি করে ৩৪৪ জনকে হত্যা করেন কাদের মোল্লা।
২৪ এপ্রিল ফজরের নামাজের পর পাকিস্তানি বাহিনী হেলিকপ্টারযোগে তুরাগ নদীর পাড়ে আলুব্দী গ্রামের পশ্চিম পাশে অবতরণ করে। পূর্বদিক থেকে আলবদর বাহিনীর নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা তার সহযোগী আলবদর বাহিনীর প্রায় ৫০ জন সদস্য ও বেশ কয়েকজন অবাঙালি বিহারিদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় ও যোগসাজশে আলুব্দী গ্রাম ঘিরে ফেলে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। এ গণহত্যায় বাসু মিয়া, জহিরুল হক ওরফে জোরা মোল্লা, জেরাত আলী, ফোয়াদ আলী, শুকুর মিয়া, আওয়াল মোল্লা, ছলে মোল্লা, রুস্তম আলী ব্যাপারী, করিম মোল্লা, জয়নাল মোল্লা, কাশেম মোল্লা, বদরউদ্দিন, বিষু মোল্লা, অজল হক, ফজল হক, রহমান ব্যাপারী, নবী মোল্লা, আলামত মিয়া, মোকলেচুর রহমান, ফুলচান, নওয়াব মিয়া, ইয়াছিন ভানু, লালুচান বেপারী, সুনু মিয়াসহ ৩৪৪ জনের বেশি লোককে হত্যা করা হয়।
অভিযোগপত্রে প্রকাশ, ২৬ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় কাদের মোল্লা তার আলবদর বাহিনী নিয়ে শহীদ হযরত আলী লস্করের বাড়িতে ঢুকে মধ্যযুগীয় তাণ্ডব চালান। কাদের মোল্লার নির্দেশে হযরত আলী লস্করকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার অন্ত্বঃসত্ত্বা স্ত্রী আমেনা ও দুই শিশু মেয়ে খোদেজা (৯) ও তাছলিমাকে (৬) জবাই করে হত্যা করা হয়। ছোট ছেলে বাবু, যার বয়স ছিল মাত্র ২ বছর তাকে মাটিতে আছড়িয়ে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় মেয়ে আমেনাকে (১১) পালাক্রমে ১২ জন মিলে ধর্ষণ করেন।
ঘরের ট্রাঙ্কের পেছনে লুকিয়ে থেকে তার বোনকে ধর্ষণ করার ঘটনা দেখে লস্করের বড় মেয়ে মোমেনা (তখন তার বয়স ছিল ১২ বছর) জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ ঘটনার আগেই মোমেনার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে উঠিয়ে নেয়নি। কেরাণীগঞ্জের জিঞ্জিরায় তার স্বামীর বাড়ি ছিল। তারা এ ঘটনার সংবাদ শুনে ঘটনার ৩/৪ দিন পর এ নির্মম রোমহর্ষক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিকটিম মোমনাকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। ওই ঘটনার কারণে মোমেনা প্রায় পাগল হয়ে যাওয়ায় শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তাকে ২/৩ মাস চিকিৎসা করে ভালো করান। স্বাধীনতার পর অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বরের পর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মোমেনা তাদের বাড়িতে আসে। কিন্তু তার মা বাবা ভাই বোন কারও দেহাবশেষ পান নি। ঘরে তখনও রক্তের দাগ ছিল। সারা এলাকায় শুধু লাশ আর লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তাদের বাড়ির সব মালামাল লুট হয়ে যায়।
ওখানে গিয়ে মোমেনা বেগম স্থানীয় লোকদের কাছে জল্লাদখানার নাম শুনে জল্লাদখানায় যান এবং সেখানে গিয়ে মাথার খুলি ও হাড় দেখতে পান। জল্লাদখানায় যে নারীদের ধরে এনে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে, সেখানে তাদের অনেক শাড়ি চুরি ইত্যাদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেছেন। এরপর মোমেনা বেগম পুরোপুরি পাগল হয়ে যাওয়ায় তাকে ৩ বছর শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। অনেক চিকিৎসার পরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক ও আইনজীবী খন্দকার আবু তালেবকে হত্যার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে।  অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, খন্দকার আবু তালেব আইন পেশার পাশাপাশি সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ, দৈনিক আযাদ, সংবাদ, ইত্তেফাক, দ্য মর্নিং নিউজ, অবজারভার ও পয়গাম পত্রিকায় কাজ করেছেন। ২৯ মার্চ অফিস থেকে মিরপুরে ফেরার পথে ইত্তেফাকের তত্কালীন অবাঙালি চিফ একাউনট্যান্ট আবদুল হালিম তাকে তার গাড়িতে তুলে নিয়ে পরে কাদের মোল্লার হাতে তুলে দেন।
কাদের মোল্লা ও তার সহযোগীরা মিরপুরের ১০ নম্বর জল্লাদখানায় খন্দকার আবু তালেবকে নিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। ওই দিন বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ঢাকার মিরপুর ১০নং বাসস্ট্যান্ড ও মিরপুর জল্লাদখানায় হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। ঘাটারচর গণহত্যার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৫ নভেম্বর কেরাণীগঞ্জের ভাওয়াল খানবাড়ি ও ঘাটারচর (শহীদনগর) এবং পাশ্ববর্তী দু’টি গ্রামে কাদের মোল্লা তার সহযোগী আলবদর বাহিনীর সদস্যসহ পাকিস্তানি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শতাধিক নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর আলবদর বাহিনীর সদস্যরা মোজাফফর আহম্মেদ খানের বাড়িসহ দু’টি গ্রামে আগুন ধরিয়ে দেন।
সেখানে যাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন, ওসমান গনি, গোলাম মোস্তফা, দরবেশ আলী, আরজ আলী, রাজা মিয়া, আব্দুর রহমান, আব্দুল কাদির, সোহরাব হোসেন, আব্দুল লতিফ, নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলীসহ আরও অনেকে।
প্রসঙ্গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এর পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সাজা বাড়িয়ে ফাঁসির আদেশ প্রদান করেন। এর আড়াই মাসের মাথায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে সরকারের পক্ষ থেকে গত রবিবার তার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয় এবং মঙ্গলবার রাত ১২টা ১মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়। ওই দিন পারিবারের সদস্যরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে কাদের মোল্লার সাথে শেষ দেখাও করে আসেন।
কিন্তু ওই একই দিন অত্যান্ত দ্রুততার সথে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক আকস্মিক আদেশে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ সৈয়দ মাহমুদ হোসেন কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করে দেন। ওই রাতেই কাদের মোল্লার পক্ষে পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করেন তার আইনজীবীরা। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে শুনানি শেষ করে রিভিউ পিটিশটি খারিজ করে দেয় আদালত।


সম্পাদনা: News Desk, নিউজরুম এডিটর

আমারসিলেট২৪.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Place for advertisement
Place for advertisement

সর্বশেষ সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত

এডিটর: আনিছুল ইসলাম আশরাফী, এনিমেটরস্ বাংলা মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদকীয় কার্যালয়: কলেজ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
Email: news.amarsylhet24@gmail.com Mobile: 01772 968 710

Developed By : i-Tech Sreemangal
Email : itech.official@hotmail.com
Facebook : http://facebook.com/itech.ctc