আফ্রিকাতে সমকামী মেয়েদের ধর্ষণ করছে সংশোধনের জন্য

    1
    7

    আমারসিলেট24ডটকম,০৬জানুয়ারীঃ  দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন এমনই দেখা যাচ্ছে। দেশের যে সমস্ত মেয়েরা লেসবিয়ান, তাঁদের সংশোধনের জন্য ধর্ষণ করা হচ্ছে। যাকে এখন ‘কারেক্টিভ রেপ’-এর নাম দেওয়া হয়েছে।
    সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে। জোহানেসবার্গের ম্বুলেনি ফানাকে লেসবিয়ান হওয়ার অপরাধে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়। একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে ফুটবল খেলে ফেরার সময় চার যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে। প্রতিবাদ করার আগেই তাঁকে পাশের ফুটবল গ্রাউন্ডে তুলে নিয়ে গিয়ে চার জনই ধর্ষণ করে। ফানা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায়, তাঁকে মারধরও করা হয়। তার পর তাঁকে সেখানেই ফেলে চলে যায় অভিযুক্তরা।
    চিকিত্‍‌সার পর ফানা মনে করতে পেরেছে, যাওয়ার সময় ওই চার যুবক বলছিল, ‘আমরা তোমার সঙ্গে যা করলাম, তা একেবারে ঠিক। এবার তুমি বুঝতে পারবে যে আসল মেয়ে হওয়া কাকে বলে এবং তাকে কী ভাবে থাকতে হয়। আজকের পর থেকে তুমি আগের মতো থাকবে না। এবার থেকে তুমি একটি মেয়ের মতো আচরণ করবে।’
    এটি প্রথম ঘটনা নয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় এর আগেও একাধিকবার সমকামী মেয়েদের ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষিতারা প্রাণ হারিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় এই ধরনের ধর্ষণকে ‘কারেক্টিভ রেপ’ নাম দেওয়া হয়েছে।
    পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমকামীরা যাতে তাঁদের লিঙ্গ জানতে পারেন, তাই তাঁদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। ধর্ষকদের সাফাই, সমকামীরা যাতে সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতে পারে, তাই তাঁদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। ধর্ষকদের ধারণা, কারেক্টিভ রেপের পর, হোমোসেক্সুয়ালরা হেটরোসেক্সুয়াল হয়ে যাবে এবং বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে সম্বন্ধ গড়ে তুলবে।
    বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই দেশে এক বছরে ৫ লক্ষ ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়। অর্থাত্‍‌ প্রতি ১৭ সেকেন্ডে একটি রেপ। এ কারণে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৃথিবীর রেপ ক্যাপিটাল বলা হয়। হিংসা বিরোধী এনজিও সিআইইটি-র মতে, ধর্ষণের শিকারদের মধ্যে ২০ শতাংশ পুরুষ।
    মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের সমীক্ষায় প্রকাশ হয়েছে, পূর্ব কেপ প্রদেশে এক চতুর্থাংশ পুরুষ স্বীকার করেছে যে, নিজের জীবনে অন্তত একবার তাঁরা ধর্ষণ করেছে। পাশাপাশি তারা এ-ও জানিয়েছে, সাধারণত ২০ বছরের কম বয়সের যুবক-যুবতীকেই তারা টারগেট করে। শুধু আনন্দ উপভোগ করার জন্য তাঁরা এটি করেছে বলেও জানিয়েছে।

    “কারেক্টিভ রেপে”র ধারণা সামনে আসার পর অন্যান্য দেশের চিন্তাও বেড়ে গিয়েছে। এ ব্যাপারে কোনও সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে অ্যাকশনএড রিসার্চার্স নামে এক সংস্থা জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে ১০টি কারেক্টিভ রেপের মামলা সামনে এসেছে। সূত্র:এইসময়

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here