আজ সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টএ ফেলানী হত্যা মামলায় বাবা ও মামা সাক্ষ্য দেবেন

    0
    2

    ২০১১ সালের জানুয়ারি ১৫ বছরের ফেলানী বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। কাঁটাতারের ওপর দীর্ঘক্ষণ ঝুলে থাকা ফেলানীর মৃতদেহ নিয়ে সারা পৃথিবীতে হইচই পড়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ওই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়। এর পরই বিএসএফ ফেলানী হত্যার ঘটনায় একটি মামলা করে। গঠন করে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্

    আমার সিলেট ২৪.কম,১৯আগস্ট : বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে তার বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আবদুল হামিদ   রোববার সকালে ভারতের উদ্দেশে রওনা করেছেন।বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্প থেকে সকাল নয়টার তাঁরা যাত্রা করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কুড়িগ্রাম বিজিবি ৪৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ এবং কুড়িগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্রাহাম লিংকন।

    লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে চারজনের এ দলটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে যাবে। আজ সোমবার ১৯ আগস্ট এ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেবেন ফেলানীর বাবা ও মামা। কড়া নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পেরোনোর সময় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত বিএসএফের সদস্য অমিয় ঘোষের বিচার ১৩ আগস্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে শুরু হয়।কোচবিহারের সোনারীতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ১৮১ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে ওই বিচারকাজ শুরু হয়। যে আদালতে বিচার চলছে, তা সেনা কোর্ট মার্শালের সমতুল্য জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্ট (জিএসএফসি)।

    বিচার-প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন বিএসএফের গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি (কমিউনিকেশনস) সি পি ত্রিবেদী।

    প্রথম দিন বিচারকাজ পরিচালনার জন্য পাঁচজন বিচারককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরের দিন ১৪ আগস্ট থেকে শুনানি শুরু হয়।

    প্রথম দিনে অভিযুক্ত কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হয়। অমিয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুন) এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিএসএফের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, বিচারের শুরুতেই অমিয়কে বিচারকেরা জিজ্ঞাসা করেন, তিনি দোষ স্বীকার করছেন কি না। অমিয় দোষ স্বীকার না করে আইনি ভাষায় বলেন, ‘নট গিল্টি’।

    বিএসএফ সূত্র জানায়, ১৯ আগস্ট ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আবদুল হামিদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে। সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালত তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।২০১১ সালের জানুয়ারি ১৫ বছরের ফেলানী বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। কাঁটাতারের ওপর দীর্ঘক্ষণ ঝুলে থাকা ফেলানীর মৃতদেহ নিয়ে সারা পৃথিবীতে হইচই পড়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ওই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়। এর পরই বিএসএফ ফেলানী হত্যার ঘটনায় একটি মামলা করে। গঠন করে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্ট

    ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কুড়িগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্রাহাম লিংকন  বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচার হতে যাচ্ছে। আশা করি আমরা ন্যায়বিচার পাব। এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার হলে সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে।’লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ বলেন, এই বিচার দুই দেশের জন্যই মাইলফলক হয়ে থাকবে। আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে।

     

     

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here