আজ পাকিস্তানের নয়া পরিণতির অজানা রাহে যাত্রা

0
78
আজ পাকিস্তানের নয়া পরিণতির অজানা রাহে যাত্রা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

“বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সংসদে অনাস্থা ভোটের আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইমরান খান। আমেরিকা এর সঙ্গে জড়িত বলে ইমরান খানের দল পিটিআই অভিযোগ করেছে। এ সংক্রান্তও কিছু প্রমাণও তুলে ধরা হয়েছে।“

“অপরদিকে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা অনাপত্তিপত্র ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না। পাকিস্তানে সরকার পরিবর্তনের কারণে অনেক কর্মকর্তা দেশ থেকে পালাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে দ্য সিকিউরিটি অ্যান্ড ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এফআইএ।“   

শাহ মাহমুদ কোরেশি বামে,শাহবাজ শরীফ ডানে।

আমারসিলেট ডেস্কঃ পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে আজ সোমবার নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। রোববার ১০ এপ্রিল ছিল এই পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সুযোগ।

পাকিস্তানের বিরোধী জোটের প্রার্থী ও পিএমএল-এন সভাপতি শাহবাজ শরীফ এবং পিটিআইয়ের শাহ মাহমুদ কোরেশি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এর আগে গতরাতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান খানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমরানের বিপক্ষে ১৭৪টি ভোট পড়ে। পার্লামেন্টের ৩৪২ আসনের মধ্যে ইমরান খানের সরকারের পতনের জন্য ১৭২ জনের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। ফলে, প্রধানমন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়ে যায়।

নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) পার্টির প্রধান শাহবাজ শরিফই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই শাহবাজ এতদিন প্রধান বিরোধী দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার পতনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

অপরদিকে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা অনাপত্তিপত্র ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না। পাকিস্তানে সরকার পরিবর্তনের কারণে অনেক কর্মকর্তা দেশ থেকে পালাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে দ্য সিকিউরিটি অ্যান্ড ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এফআইএ।   

এই সংস্থার নির্দেশনায় দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা বিদেশে ভ্রমণ করতে চাইলে তাকে বাধা দিতে বলা হয়েছে।

ইমরান খানের জোট সরকারের পতনের পর হঠাৎ করেই পাকিস্তানি নাগরিকদের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদেরও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এর আগে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে শনিবার সকালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসে। এর মাঝে দফায় দফায় অধিবেশন মুলতবি করা হয়। রাত ১২টার অল্প কিছু সময় আগে পদত্যাগ করেন স্পিকার আসাদ কোরেশি। এরপর ডেপুটি স্পিকারও পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এরপর গভীর রাতে ভোটাভুটিতে হেরে যান ইমরান খান। বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সংসদে অনাস্থা ভোটের আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইমরান খান। আমেরিকা এর সঙ্গে জড়িত বলে ইমরান খানের দল পিটিআই অভিযোগ করেছে। এ সংক্রান্তও কিছু প্রমাণও তুলে ধরা হয়েছে।

ইমরান খান দাবি করে আসছিলেন যে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কারণে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র পাকানো হয় হোয়াইট হাউজ থেকে। তার মতে মার্কিন সরকারের সঙ্গে তার বিরোধী দলগুলোর অলিখিত সমঝোতার বলি হয়েছেন তিনি। মার্কিন সরকার ও তার কোনো কোনো আঞ্চলিক মিত্রের দৃষ্টিতে ইমরান খান হয়ে পড়েছিলেন তাদের প্রত্যাশার বিপরীতে অবাধ্য সরকার! ইমরান পাকিস্তানের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহার করতে দেয়ার প্রস্তাবও নাকচ করে দেয়ায় এবং ইউক্রেন যুদ্ধে শুরু হওয়ার পর রাশিয়া সফরে যাওয়ায় ওয়াশিংটন তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ইমরান যে ধরনের স্বাধীন নীতি অনুসরণ বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার প্রতি বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়ার নীতি গ্রহণ করেছেন তা তার আগের কোনো সরকার গ্রহণ করতে সাহসী হয়নি। ইমরান ২০১৮ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আফগান যুদ্ধ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতায় সতর্কতার নীতি প্রয়োগ করেছেন এবং মার্কিন ইচ্ছার ওপরে পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অথচ তার আগের পাকিস্তানী কর্মকর্তারা আফগান যুদ্ধে মার্কিন সরকারের হাতে হয়েছেন সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহৃত।

পাকিস্তানকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেননি ইমরান। বিশেষ করে পাকিস্তানের মাটিতে  মার্কিন সেনা-ঘাঁটি করতে না দেয়ার পদক্ষেপ ইমরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিহিংসা সৃষ্টি করেছিল মার্কিন সরকারের মধ্যে। এ অবস্থায় বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে ইমরান খানকে পাকিস্তানের ক্ষমতা থেকে বিদায় করার পরিকল্পনায় মেতে ওঠে ওয়াশিংটন। শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও ইমরান-বিরোধী শিবিরের যৌথ পরিকল্পনাই সফল হয়েছে। কিন্তু এর পরিণতিতে পাকিস্তানের সামাজিক ও রাজনৈতিক ময়দান বেশ কিছুকাল উত্তপ্ত থাকতে পারে। ইমরান খানের সমর্থকরা তার আহ্বানে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ করে পরিস্থিতিকে অশান্ত করে তুলতে পারেন।

মনে করা হচ্ছে যে পাকিস্তানের নতুন সরকার আবারও ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে আনবে এবং এমনকি তালেবান ও প্রতিবেশীদের ব্যাপারেও পাকিস্তানের নতুন সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ইমরানের পদচ্যুতির বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় তার প্রতি সেদেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক সহানুভূতি সৃষ্টি হতে পারে। ফলে ইমরান খান ও তার দল আগামী জাতীয় নির্বাচনে আগের চেয়েও ভালো ফল নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here