আজমিরীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় ব্রাক ম্যানেজার রক্তাক্ত জখম

    0
    6

    নূরুজ্জামান ফারুকী বিশেষ প্রতিনিধি: আজমিরীগঞ্জের কাকাইলছেওয়ে গভীর রাতে ব্র্যাক অফিসে হামলা চালিয়েছে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ইলিয়াস আহমেদ (৪৫) গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ইলিয়াস আহমেদকে উদ্ধার প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে হবিগঞ্জ থেকে সকাল বেলা ইলিয়াস আহমেদকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। আহত ইলিয়াস আহমেদ পটুয়া খালী জেলার মৃত আব্দুল বারিক মিয়ার পুত্র। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।খবর পেয়ে শুক্রবার (০৮ জানুয়ারি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ সেলিম। জানা যায়, ইলিয়াস আহমেদ প্রায় ১ বৎসর পূর্বে বানিয়াচং ব্রাঞ্চ থেকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ব্রাঞ্চে ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি অফিস বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার (০৭ জানুয়ারি) রাত প্রায় আড়াইটার দিকে ৩/৪ জনের একটি মুখোশধারী দুর্বৃত্তের দল তার রুমে প্রবেশ করে রামদা দিয়ে কুপিয়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে পালিয়ে যায়। এরপর ভোরবেলা ইলিয়াস আহমেদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, রাতে এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটলেও বিল্ডিংয়ের আশপাশের কেউই কোনো ধরনের শোর চিৎকার শুনতে পাননি। এ বিষয়ে ব্র্র্যাকের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সমন্বয়কারী বিলকিস জাহান জানান, রাত প্রায় তিনটার দিকে খবর পেয়ে আমি কাকাইলছেও ব্রাঞ্চে যাই এবং সেখানে ইলিয়াস আহমেদকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

    আমরা তখন পুরো অফিসে কোনো ধরনের ভাংচুর বা ডাকাতির কোনো চিহ্ন দেখতে পাইনি। শুধু ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ইলিয়াস আহমেদ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন। পরে তাকে হাসপাতালে প্রেরণ করি। বিষয়ি নিয়ে আমরা আসলে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। এ বিষয়ে
    বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ সেলিম বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা যে বা যারা এটি ঘটিয়েছে এর পেছনে ব্যক্তিগত কারো আক্রোশ রয়েছে এবং সে বা তারা ইলিয়াসের পুর্ব পরিচিত। রাতের অফিসের গেটে কোনো তালা ছিলো না, এমনকি যে রুমে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানোও কোনো রকমের ধস্তাধস্তির চিহ্ন নেই, অফিসের কোনো জিনিস বা টাকার ভল্টেও কেউ হাত দেয়নি। ভিকটিম চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রয়েছেন। আমরা ভিকটিমের সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করছি এবং আমাদের এক সাব ইন্সপেক্টরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের সাথে কথা বলার পর আসলে বিষয়টি বুঝা যাবে। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।