অবশেষে ইউক্রেনে আটকা পড়া জাহাজের ২৮ নাবিক-ক্রু বাংলাদেশে

0
67
অবশেষে ইউক্রেনে আটকা পড়া জাহাজের ২৮ নাবিক-ক্রু বাংলাদেশে
অবশেষে ইউক্রেনে আটকা পড়া জাহাজের ২৮ নাবিক-ক্রু বাংলাদেশে

আমারসিলেট ডেস্কঃ অবশেষে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকা পড়া বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের ২৮ নাবিক-ক্রুকে। তারা রোমানিয়ার বুখারেস্ট থেকে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বুধবার ৯ মার্চ ২০২২ ইং তারিখ দুপুর ১২টা ১ মিনিটে হযরত শাহজালাল (রাহঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। তাদের আগমনে বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী ও স্বজনদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত আকারে জানানো হয় কোন পরিস্থিতিতে তাদের সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে এ সময় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে রকেট হামলায় নিহত হাদিসুর রহমানের ছোট ভাইয়ের বুকফাটা আর্তনাদ আহাজারিতে। শত শত লোকের সামনেই তিনি বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটের মেঝেতে গড়িয়ে বুক চাপড়িয়ে সবাইকে যেন শোকার্ত করে তোলেন। তার সামনেই এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পূর্ব-ইউরোপ) শিকদার বদিউজ্জামান আশ্বাস দেন, ‘হাদিসুর রহমানের মরদেহ এখনও ইউক্রেনে রয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে অবিলম্বে আনা হবে।

বিমানবন্দরে সরজমিনে দেখা যায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল দশটা থেকেই বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী সেখানে হাজির হতে থাকেন। সিডিউল মতো ফ্লাইটটি অবতরণ করার পরই নাবিকদের ভিআইপি গেট দিয়ে বের করে নিয়ে আসা হয় লাউঞ্জে। এখানে তারা কিছুক্ষণ থাকার পর চলে যান লাগেজ সংগ্রহ করতে ৩নং বেল্টে। সেখান থেকে সবাই একযোগে নিজ নিজ লাগেজ সংগ্রহ করে আবারও লাউঞ্জে বসে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেন। বিমানবন্দরে সবাই লাগেজ হাতে নিয়ে লাউঞ্জে ফেরার সময় তাদের দেখা গেছে বিষাদময়। একদিকে সহকর্মী হারানোর বেদনায় কাতর, অন্যদিকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দেশে ফেরার সৌভাগ্য হওয়ার আনন্দে তারা ছিলেন অনেকটাই বিস্মিত ও হতবাক। তাদের কাছে কিছু জানতে চাইলে শুধু বলেছেন, এখন কিছু বলার মতো পরিস্থিতি নেই। আগে ঘরে ফিরি। পরে সব জানানো যাবে। দেশে ফিরতে পেরেছি এটাই বড়।

এ সময় তাদের বসিয়ে রেখে ভিআইপি গেটে অপেক্ষমাণ শতাধিক গণমাধ্যমকর্মীর সামনে গিয়ে হাজির হন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পূর্ব-ইউরোপ) শিকদার বদিউজ্জামান, ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন জি এম নুর ই আলম ও শিপিং কর্পোরেমানের ক্যাপ্টেন আমির মোঃ আবু সুফিয়ান।

একই সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধকবলিত ইউক্রেনে এখনও অনেক বড় বড় দেশের ক্রুরা আটকা আছেন। তারা এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। বাংলাদেশ খুব ছোট একটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমাদের কূটনীতিকরা অনেক পরিশ্রম ও চেষ্টা করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শিকদার বদিউজ্জামান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ও পোল্যান্ড, রোমানিয়ায়, অস্ট্রিয়ার দূতাবাস কঠোর পরিশ্রম করেন। আমরা এত দ্রত দেশে ফিরতে পারব কিনা তা ছিল আমাদের জন্য অকল্পনীয়। তিনি বলেন, অত্যন্ত গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি আমাদের কলিগ ও থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুরের মৃত্যুতে। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তার মরদেহ হিমঘরে রেখে এসেছি।

বুধবার সকাল থেকেই ফিরে আসা নাবিকদের জন্য বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্য, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের কর্মকর্তা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা। ছিলেন শত শত গণমাধ্যমকর্র্মী। তাদের সামনে এসেই কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শিকদার বদিউজ্জামান ও বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের জিএম বা ক্যাপ্টেন নূরে আলম।

আমরা সৌভাগ্যবান ফেরাটা অকল্পনীয় ছিল-ওই জাহাজের মাস্টার জি এম নূরে আলম দৈনিক জনকণ্ঠকে বলেন, শোকর আলহামদুলিল্লাহ। আমরা সকলেই আনন্দিত সুস্থভাবে দেশ ফিরতে পেরেছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আসলেই আমরা সৌভাগ্যবান। ওরকম পরিস্থিতিতে যে কোন কিছু ঘটতে পারত। চোখের সামনে তো দেখলাম কিভাবে হাদিস চলে গেল।

সেদিনের হামলা সম্পর্কে বলেন, আমরা নিয়মিত ডিউটিতে ছিলাম। বিকেলে যখন এ্যাটাক হয়, তখন জাহাজের ব্রিজে আগুন লেগে গিয়েছিল। এরপর আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। দেশবাসী আমাদের জন্য অনেক দোয়া করেছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিভিন্ন পরামর্শ ও সাহস দিয়েছেন। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীও ফোন করে আমাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ নেন। আমরা যেখানে দেখেছি প্রায় ৬০ কিলোমিটার হেঁটে হেঁটে রিফিউজিরা সীমান্ত অতিক্রম করছে। কিন্তু আমাদের হেঁটে পার হতে হয়নি। যেদিন থেকে যুদ্ধ শুরু হয়, সেদিন সকাল থেকেই চ্যানেল বন্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ ছিল না।

সেই ভিড়ের মধ্যেই নাবিকদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন জাহাজের মাস্টার নূর ই আলম। তিনি বলেন, দেশে সুস্থভাবে ফিরতে পেরে অনেক আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সবার তৎপরতায় নিরাপদে এবং দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরতে পেরেছি- আমাদের পরিবার অপেক্ষায় ছিলেন, সবার চেষ্টায় ফিরতে পেরেছি এত অল্প সময়ের মধ্যে। নূর ই আলম বলেন, আমরা আতঙ্কিত ছিলাম। আমাদের সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা এখানে সুস্থভাবে আসতে পেরেছি, এটাই বড় কথা। তবে আমরা জার্নি করায় খুব ক্লান্ত।

ওই জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার পর বিএসসি, নৌ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব সময় যোগাযোগ রাখা হয়েছিল জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নূর ই আলম। তাদের বের করে আনার জন্য পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং রোমানিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাস কর্মীরা যে পরিশ্রম করেছেন, সেজন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন-সাধারণত আমার সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কারও কথা হয় না, কিন্তু হামলার পর বিভিন্ন সময়ে আমাদের সার্বিক অবস্থা জানতে, আমরা কে কেমন আছি এসব জানতে… আমার সঙ্গে সরকারের কর্মকর্তারা কথা বলেছেন, সাহস দিয়েছেন। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সব কাজ হয়েছে, সবার প্রতি আমি আসলেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, এভাবে ফিরতে পারব ভাবি নাই।

এখনও ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের চ্যানেলে আটকে থাকা বাংলার সমৃদ্ধির মাস্টারের ভাষায়, ‘ফিরে আসাটা ছিল অকল্পনীয়। কারণ অনেক বড় বড় দেশ আছে যাদের নাগরিক এখনও দেশে ফিরতে পারেনি। আমাদের ছোট দেশ, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও ডিপ্লোম্যাটদের সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে।

নিজেরা ফিরতে পারলেও সহকর্মী হাদিসুর রহমানের লাশ ইউক্রেনেই রেখে আসতে হয়েছে নূর ই আলমদের। সেজন্য কষ্ট প্রকাশ পেল তার কণ্ঠে। তিনি বললেন, আমি গভীরভাবে মর্মাহত, নিহত হাদিসুরের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সরকার ও কর্পোরেশনকে অনুরোধ করব, তার পরিবারকে যেন উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।

তিন মিশনের যৌথ প্রচেষ্টায় আনা হবে মরদেহ-বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের নিহত থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে তিনটি মিশন একসঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শিকদার বদিউজ্জামান। তিনি বলেছেন, হাদিসুর রহমানের মরদেহ এখনও ইউক্রেনে রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা তার মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো। এ বিষয়ে আমরা আন্তরিক। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে আমাদের তিনটি মিশন একসঙ্গে কাজ করছে। তবে হাদিসুরের মরদেহ কতদিনের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে, তা টাইম ফ্রেম বেঁধে বলা মুশকিল। কারণ আপনারা জানেন ইউক্রেনে যুদ্ধ চলছে। সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারছেন না। তবে তার মরদেহ দেশে আনতে আমাদের আন্তরিকতা শতভাগ।

মৃত্যুর দুয়ার থেকে যেভাবে ফেরা-‘আসলে আমরা সবাই মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। এটি নতুন করে জীবন ফিরে পাওয়া। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমরা মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি।

এভাবেই দেশে ফেরার অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রামের রাকিব। তিনি এক দুঃসহ অভিজ্ঞতার সঙ্গেই তুলনা করেছেন ইউক্রেন থেকে ফেরার অভিযাত্রাকে। তার মতে- ‘তাদের মতো ভাগ্য সহায় হয়নি সহকর্মী নাবিক হাদিসুর রহমানের। ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর প্রাণ হারান। তারপর টানা ২১ ঘণ্টা পর জাহাজটি থেকে নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়। দ্রুততম সময়েই তারা আশ্রয় পান দেশটির একটি বাঙ্কারে। দুদিন পর মলদোভা হয়ে রোমানিয়া পৌঁছান তারা। বুধবার রাতে একটি বিশেষ ফ্লাইটে বাংলাদেশের উদ্দেশে বুখারেস্ট ত্যাগ করেন টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে।

নরসিংদীর নাবিক জামাল হোসেন জানান, ২ মার্চ আটকে থাকার হতাশা পরিণত হয় ভয় আর আতঙ্কে। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজে আঘাত হানে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান সেই সময় নেভিগেশন ব্রিজে ছিলেন, ফোনে কথা বলছিলেন। সেসময় সহকারী প্রধান প্রকৌশলী, সেকেন্ড অফিসার ও ডেক ক্যাডেটও সেখানে ছিলেন। হামলার পরপরই জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তিন জন প্রাণে বাঁচলেও হাদিসুর ফিরতে পারেননি।

চট্টগ্রামের সালমান বলেন, আসলে সবারই সহযোগিতা ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকার, ক’জন বাংলাদেশী প্রবাসী এবং ইউক্রেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় জাহাজ থেকে নাবিকদের উদ্ধার করে। এরপর বাংলাদেশ সরকার ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠায়, যাতে জাহাজটি পরিত্যক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। জাহাজের ক্রুরা ৫ মার্চ পর্যন্ত বাঙ্কারে ছিলেন। আরও একদিন আগে তাদের মলদোভা সীমান্তে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নিরাপত্তার অভাবে সেটি আর হয়নি।

তিনি বলেন, মূলত সেদিনই সবাই দুটি মাইক্রোবাসে সকাল সোয়া ৮টার দিকে মলদোভা সীমান্তের দিকে যাত্রা শুরু করেন। যদিও ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্র পেতে চার ঘণ্টা লেগে যায়। মলদোভা সীমান্তে যাওয়ার পথে মোট ১৭টা সামরিক চেকপোস্ট পার হতে হয় তাদের। ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে ইউক্রেনীয় সেনারা তাদের সঙ্গে ছিলেন। সব চেকপয়েন্ট ইউক্রেনের সেনারা নিয়ন্ত্রণ করছিল। তারা আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। ‘আমরা ৬ মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে মলদোভার পালানকাকে প্রবেশ করি। মলদোভা-রোমানিয়া সীমান্তে পৌঁছাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে। তার এক ঘণ্টার মধ্যেই আমরা রোমানিয়া সীমান্ত পার হই। এভাবে দুপুর ১টার দিকে বুখারেস্টে পৌঁছাতে সক্ষম হই। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বুখারেস্টের হোটেলে পৌঁছাই, তখন আমরা বিধ্বস্ত ও দুর্বল। যদিও নিরাপদ একটি জায়গায় পৌঁছাতে পেরে তার স্বস্তিও ছিল। নিরাপদে ফিরে আসার জন্য যারাই আমাদের সাহায্য করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমাদের নেই।

হাদিসুরের ভাইয়ের আহাজারি-দুর্ভাগা জাহাজটি যেন শুধু হাদিসুরের জন্যই অভিশপ্ত হয়ে ওঠেছিল। কেউ প্রাণ হারায়নি তাকে ছাড়া। সবাই ফিরে এসেছে মায়ের কোলে। বাকি রয়েছে শুধু হাদিসুর রহমান। তার মরদেহটিও আনা হয়নি। হাদিস না ফিরলেও তার সহকর্মীদের মুখে কিছু শোনার জন্য বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন তার শোকার্ত ভাই গোলম মাওলা প্রিন্স। সেখানেই তখন বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে পেয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করতেই ঢুকরে কেঁদে ওঠেন তিনি। তার চোখে মুখে করুণ কান্নার সুরে উপস্থিত সবাই যেন আবেগতাড়িত হয়ে ওঠেন। হাদিস সম্পর্কে কিছু বলতে গিয়েই বারবার যেন মূর্ছা যাওয়ার অবস্থা হয়। বলতে থাকেন- ‘কই পামু ভাইরে। আপনারা আমারে আইন্না দেন। ফিরিয়ে দেন তাকে। কে চালাবে আমার পড়ালেখার খরচ! আমাদের সব শেষ, ভাইরে.., আমার ভাই…।সুত্র জনকণ্ঠ  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here